১০/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৪০ - মনের কথা ও তালাকের হুকুম
যে ব্যক্তি মনে মনে তালাক দিয়ে মুখে সে সম্পর্কে কিছু বলেনি।
মনে মনে তালাকের কথা: কাজ বা উচ্চারণের আগে দায় নেই
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৪০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৪০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ وَعَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ ح و حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ جَمِيعًا عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي عَمَّا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أَوْ تَكَلَّمْ بِهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ আমার উম্মাতের মনে মনে বলা কথা উপেক্ষা (ক্ষমা) করেছেন, যাবত না সে তদনুযায়ী কাজ করে অথবা মুখে উচ্চারণ করে।
[২০৪০] সহীহুল বুখারী ২৫২৮, ৫২৬৯, ৬৬৬৪, মুসলিম ১২৭, তিরমিযী ১১৮৩, নাসায়ী ৩৪৩৩, ৩৪৩৪, ৩৪৩৫, আবূ দাউদ ২২০৯, আহমাদ ৮৮৬৪, ৯২১৪, ৯৭৮৬, ৯৮৭৮, ৯৯৯০, সহীহ আবী দাউদ ১৯১৫, ইরওয়াহ ২০৬২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মনের কথা, নিয়ত ও মুখে বলা কথার পার্থক্য খুব সহজভাবে বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহ তাঁর উম্মতের মনে মনে বলা কথা উপেক্ষা করেছেন, যতক্ষণ মানুষ সেটি অনুযায়ী কাজ না করে বা মুখে উচ্চারণ না করে। তাই শুধু মনে কোনো ভাবনা আসা, কোনো কথা মনে ঘুরতে থাকা, বা তালাকের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ভেতরে ভেতরে চিন্তা আসা—এসবকে এই বর্ণনায় আলাদা করে দেখা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দায়িত্ব তখনই আসে যখন মানুষ কাজ করে বা কথা বলে। তবে হাদিসটি মানুষকে কথাবার্তায় সতর্কও করে, কারণ মুখের উচ্চারণ ও বাস্তব কাজের প্রভাব থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুধু মনের ভাবনা কাজ বা কথায় না এলে দায়ের মতো গণ্য করা হয়নি।
- তালাকের মতো বিষয়ে মুখের কথা ও বাস্তব কাজকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
- মনে খারাপ চিন্তা এলে হতাশ না হয়ে নিজেকে সামলানো দরকার।
- কোনো সিদ্ধান্ত মুখে বলার আগে ভেবে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
