১১/৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২১০৭ - ভালো কাজের জন্য শপথ ভঙ্গের কাফফারা
কেউ শপথ করার পর তার বিপরীত করা কল্যাণকর প্রতিভাত হলে।
শপথ ভঙ্গের কাফফারা: ভালো কাজকে বেছে নেওয়ার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২১০৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২১০৭
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي مُوسَى، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فِي رَهْطٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ نَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " وَاللَّهِ مَا أَحْمِلُكُمْ وَمَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ " . قَالَ فَلَبِثْنَا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أُتِيَ بِإِبِلٍ فَأَمَرَ لَنَا بِثَلاَثَةِ إِبِلٍ ذَوْدٍ غُرِّ الذُّرَى فَلَمَّا انْطَلَقْنَا قَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ نَسْتَحْمِلُهُ فَحَلَفَ أَلاَّ يَحْمِلَنَا ثُمَّ حَمَلَنَا ارْجِعُوا بِنَا. فَأَتَيْنَاهُ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَتَيْنَاكَ نَسْتَحْمِلُكَ فَحَلَفْتَ أَنْ لاَ تَحْمِلَنَا . ثُمَّ حَمَلْتَنَا فَقَالَ " وَاللَّهِ مَا أَنَا حَمَلْتُكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ حَمَلَكُمْ وَاللَّهِ مَا أَنَا حَمَلْتُكُمْ بَلِ اللَّهُ حَمَلَكُمْ إِنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " . أَوْ قَالَ " أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَكَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي " .
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আশআরীদের একটি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের জন্য জন্তুযানের ব্যবস্থা করতে অক্ষম। রাবী বলেন, আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম। অতঃপর কিছু সংখ্যক উট এসে গেল। তখন তিনি আমাদের উজ্জ্বল কুঁজবিশিষ্ট তিনটি উট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন।আমাদের প্রত্যাবর্তনের সময় আমাদের একজন অপরজনকে বললো, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। তিনি শপথ করে বলেছিলেন যে, তিনি আমাদের জন্তুযান দিতে অপারগ। পরে আবার তিনি আমাদের তা দিলেন। কাজেই চলো, আমরা তাঁর নিকট ফিরে যাই। অতএব আমরা তাঁর নিকট ফিরে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। আপনি শপথ করে বলেছিলেন যে, আপনি আমাদের জন্তুযান দিতে অক্ষম। এরপর আপনি আমাদের জন্তুযান দিলেন।তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করিনি, আল্লাহই তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহর শপথ! আল্লাহর তা'আলার মর্জি আমি শপথ করার পর তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পেলে আমি শপথ ভঙ্গের কাফফারা আদায় করি, অতঃপর কল্যাণকর কাজটি করি। অথবা তিনি বলেনঃ আমি সেই ভাল কাজটি করি এবং আমার শপথ ভঙ্গের কাফফারা শোধ করি।
[২১০৭] সহীহুল বুখারী ৩১৩৩, ৬৭২১, মুসলিম ১৬৪৯, নাসায়ী ৪৩৪৬, আহমাদ ১৯০৯৪, ১৯১২৫, ১৯২৫০, ইরওয়াহ ৭/১৬৬, রওদুন নাদীর ২০৪০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২১০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ মূসা (রাঃ) ও আশআরীদের একটি ঘটনা এসেছে। তারা বাহন চাইতে এলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে শপথ করে বলেন, তাঁর কাছে দেওয়ার মতো বাহন নেই। পরে উট এলে তিনি তাদের বাহনের ব্যবস্থা করেন। সাহাবিরা বিষয়টি নিয়ে ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বাহন তিনি দেননি; আল্লাহই ব্যবস্থা করেছেন। এরপর তিনি শপথ সম্পর্কে একটি বড় নীতি বলেন: শপথ করার পর যদি তার বিপরীতে কোনো কাজ বেশি কল্যাণকর মনে হয়, তবে তিনি শপথের কাফফারা আদায় করেন এবং কল্যাণকর কাজ করেন। এতে বোঝা যায়, জেদের কারণে ভালো কাজ আটকে রাখা ঠিক নয়। শপথের মর্যাদা আছে, কিন্তু কল্যাণের পথও গুরুত্ব পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শপথের বিপরীতে ভালো কাজ দেখা গেলে কাফফারার পথ আছে।
- জেদের কারণে কল্যাণকর কাজ আটকে রাখা ঠিক নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) বাহনের বিষয়টি আল্লাহর দান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- শপথ ভাঙলে দায়িত্বশীলভাবে কাফফারা আদায় করতে হয়।
