১৩/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩১৭ - বাকপটুতা দিয়ে অন্যের হক নেওয়ার ভয়
বিচারক রায় দিলেই হারাম হালাল হয় না এবং হালাল হারাম হয় না
বাকপটুতা দিয়ে অন্যের হক নেওয়া নয়: বিচার ও সত্যের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩১৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩১৭
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَىَّ وَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ وَإِنَّمَا أَقْضِي بَيْنَكُمْ عَلَى نَحْوٍ مِمَّا أَسْمَعُ مِنْكُمْ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ شَيْئًا فَلاَ يَأْخُذْهُ فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ يَأْتِي بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছে বিবদমান বিষয় মীমাংসার জন্য এসে থাকো। আমিও একজন মানুষ। হয়তো তোমাদের কেউ (একপক্ষ) অপর কারো (বিপক্ষের) তুলনায় নিজের যুক্তি-প্রমাণ পেশে অত্যন্ত বাকপটু হয়ে থাকবে। আর আমি তো তোমাদের বক্তব্য শুনেই তার ভিত্তিতে বিচারকার্য করি। অতএব আমি তোমাদের কারো পক্ষে তার ভাইয়ের হকের কোন অংশের ফয়সালা দিয়ে ফেলতে পারি। এ অবস্থায় সে যেন তার কিছুই গ্রহণ না করে। কারণ আমি তাকে জাহান্নামের একটি টুকরাই কেটে দিচ্ছি, যা নিয়ে সে কেয়ামতের দিন হাজির হবে।
[২৩১৭] সহীহুল বুখারী ২৪৫৮, ২৬৮০, ৬৯৬৭, ৭১৬৯, ৭২৮১, ৮১৮৫, মুসলিম ১৭১৩, তিরমিযী ১৭৩৯, নাসায়ী ৫৪০১, ৫৪২২, আবূ দাউদ ৩৫৮৩, আহমাদ ২৫১৪২, ২৯৫৫২, ২৬০৭৮, ২৬০৮৬, ২৬১৭৭, মুয়াত্তা মালেক ১৪২৪, ইরওয়া ২৬২৪, সহীহাহ ৪৫৬, ১১৬২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিচারপ্রার্থীদের সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষ তাঁর কাছে বিবাদ নিয়ে আসে। তিনি একজন মানুষ, আর কেউ কেউ নিজের যুক্তি-প্রমাণ অন্যের চেয়ে বেশি সুন্দরভাবে পেশ করতে পারে। তিনি যা শোনেন, তার ভিত্তিতে বিচার করেন। তাই যদি কারো পক্ষে তার ভাইয়ের হকের কোনো অংশের ফয়সালা হয়ে যায়, সে যেন তা গ্রহণ না করে। কারণ তা জাহান্নামের একটি টুকরার মতো। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো আদালতের রায় পেলেই কোনো জিনিস হালাল হয়ে যায় না, যদি তা আসলে অন্যের হক হয়। সত্য নিজের অন্তরেও মানতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাকপটুতা দিয়ে অন্যের হক পাওয়া বৈধ হয়ে যায় না।
- বিচারক শুনে রায় দেন; তাই সত্য গোপন করা ভয়াবহ।
- নিজের পক্ষে রায় এলেও অন্যের হক হলে তা নেওয়া যাবে না।
