১৩/৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩১৬ - রাগের অবস্থায় বিচার নিষেধ
বিচারক উত্তেজিত অবস্থায় বিচারকার্য করবে না
রাগের অবস্থায় বিচার করা যাবে না: ন্যায়বিচারের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩১৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৩১৬
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، وَأَحْمَدُ بْنُ ثَابِتٍ الْجَحْدَرِيُّ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " لاَ يَقْضِي الْقَاضِي بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ " . قَالَ هِشَامٌ لاَ يَنْبَغِي لِلْحَاكِمِ أَنْ يَقْضِيَ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ.
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দু’ (বিবাদমান) পক্ষের মধ্যকার বিচারকার্য পরিচালনা না করে। রাবী হিশাম (রহঃ) তাঁর হাদীসে বলেনঃ রাগান্বিত অবস্থায় দু’ (বিবাদমান) পক্ষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করা বিচারকের জন্য সংগত নয়।
[২৩১৬] সহীহুল বুখারী ৭১৫৮, মুসলিম ১৭১৭, তিরমিযী ১৩৩৪, নাসায়ী ৫৪০৬, ৫৪২১, আবূ দাউদ ৩৫৮৯, আহমাদ ১৯৮৬৬, ১৯৮৭৬, ১৯৮৮০, ১৯৯৫৪, ১৯৯৯৯, ইরওয়া ২৬২৬, রাওদুন নাদীর ৯২৮। তাহকীক আলবানীঃ প্রথম শব্দে সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৩১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারকের মানসিক অবস্থার গুরুত্ব শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দুই বিবদমান পক্ষের বিচার না করে। রাগ মানুষের কথা শোনা, প্রমাণ বোঝা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বিচার শুধু আইন বা বক্তব্য শোনার বিষয় নয়; বিচারকের মনও স্থির থাকা দরকার। রাবীর বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাগের অবস্থায় বিচারকার্য পরিচালনা বিচারকের জন্য সংগত নয়। এই হাদিস আজও যে কোনো সিদ্ধান্তদাতার জন্য শিক্ষা: রাগ, উত্তেজনা বা অস্থিরতায় মানুষের হক নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারক রাগের অবস্থায় দুই পক্ষের বিচার করবে না।
- সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য স্থির মন দরকার।
- মানুষের হক নিয়ে রাগের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
