১৬/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪৯৫ - গীবত কী—নবীজির স্পষ্ট ব্যাখ্যা
মন্দ চরিত্র সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন
গীবত কী? সহজ ভাষায় হাদিসের শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১৪৯৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪৯৫
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - قَالَ: أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُقَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُقَالَ: ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُقِيلَ: أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُقَالَ: «إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدْ اِغْتَبْتَهُ, وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَقَدْ بَهَتَّهُ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি জান গীবাত কাকে বলে? উপস্থিত সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) অধিক জানেন। তিনি বললেনঃ তোমার ভাই যে কথা তার প্রসঙ্গে বলা অপছন্দ মনে করে তার অসাক্ষাতে তা বলার নাম গীবাত। কেউ বললোঃ আপনি কি মনে করেন আমি যা বলছি তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্য থাকে তাহলে তুমি তার গীবাত করলে, আর যদি তার মধ্যে তা না থাকে তুমি তার উপর মিথ্যা অপবাদ দিলে। [১৬০৫]
[১৬০৫] মুসলিম ২৫৮৯, তিরমিযী ১৯৩৪, আবূ দাউদ ৪৮৩৪, আহমাদ ৭১০৬, ৮৭৫৯, দারেমী ২৭১৪।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম গীবতের অর্থ খুব সহজভাবে বুঝিয়েছেন। তিনি সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জান গীবত কাকে বলে? তারপর বললেন, তোমার ভাই যে কথা তার সম্পর্কে বলা অপছন্দ করে, তার অনুপস্থিতিতে তা বলাই গীবত। কেউ জানতে চাইল, কথাটি যদি সত্য হয়? নবীজি বললেন, সত্য হলে সেটিই গীবত; আর সত্য না হলে তা মিথ্যা অপবাদ। তাই “আমি তো সত্য কথাই বলছি”—এ কথা গীবতকে হালকা করে না। গীবত সম্পর্কে এই হাদিস আমাদের জিহ্বা সংযম শেখায়। কারও অনুপস্থিতিতে তার সম্মান নষ্ট করা, মন্দ কথা ছড়ানো বা তাকে ছোট করা থেকে বাঁচতে হবে। কথা বলার আগে ভাবা দরকার—সে শুনলে কষ্ট পেত কি না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও অপছন্দের কথা তার অনুপস্থিতিতে বলা গীবত।
- কথা সত্য হলেও গীবত হতে পারে।
- মিথ্যা কথা বললে তা অপবাদে পরিণত হয়।
- অন্যের সম্মান রক্ষায় জিহ্বা সংযম জরুরি।
