১৯/৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫২৯ - মুক্ত দাসের মাল কার
কেউ মালদার গোলাম আযাদ করলে
মালদার দাস মুক্ত হলে তার সম্পদের হুকুম
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫২৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫২৯
حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، جَمِيعًا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ أَعْتَقَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ فَمَالُ الْعَبْدِ لَهُ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَ السَّيِّدُ مَالَهُ فَيَكُونَ لَهُ» . وَقَالَ ابْنُ لَهِيعَةَ إِلاَّ أَنْ يَسْتَثْنِيَهُ السَّيِّدُ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মালদার গোলাম আযাদ করলে গোলামই উক্ত মালের মালিক। তবে মনিব নিজের জন্য তার মালের জন্য শর্ত যুক্ত করলে তা তারই হবে। ইবনু লাহীআ (রহঃ) -এর রিওয়ায়াতে আছেঃ তবে মনিব যদি সেই মাল (নিজের জন্য) নির্দিষ্ট করে নেয়।
[২৫২৯] আবূ দাউদ ৩৯৬২, আহমাদ ৪৫৩৮, ৫৪৬৩, ৬৩৪৪, ইরওয়া ১৭৪৯, মিশকাত ৩৩৯৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনুস সারী বলেন, যদি তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তার থেকে কোন হাদিস গ্রহণ করতাম না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন দাসের কথা বলা হয়েছে, যার নিজের মাল আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ মালদার দাসকে আযাদ করলে দাসই সেই মালের মালিক হবে। তবে মনিব যদি নিজের জন্য সেই মালের শর্ত করে বা নির্দিষ্ট করে নেয়, তাহলে তা মনিবের হবে। হাদিসটির মূল বিষয় হলো দাসমুক্তির সময় সম্পদের মালিকানা। এখানে দাসমুক্তি, দাসের মাল, মনিবের শর্ত—এই বিষয়গুলো আলাদা করে দেখা হয়েছে। এটি শেখায়, মুক্তির সময় সম্পদ নিয়ে অস্পষ্টতা রাখা ঠিক নয়। যে বিষয় শর্ত করতে হবে, তা পরিষ্কারভাবে বলা দরকার। এতে উভয়ের অধিকার বুঝতে সুবিধা হয়। তাই এই বর্ণনা পড়ার সময় হাদিসের সরাসরি শব্দগুলোকে আলাদা করে দেখা দরকার, যাতে মূল বক্তব্যের বাইরে অতিরিক্ত দাবি যুক্ত না হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাসমুক্তির সময় দাসের সম্পদের বিষয় পরিষ্কার করা দরকার।
- শর্ত না থাকলে দাস নিজের মালের মালিক হতে পারে—হাদিসে এমন এসেছে।
- মনিব নিজের জন্য মাল নির্দিষ্ট করলে তা আলাদা বিষয় হিসেবে গণ্য হয়।
