২০/৩৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬০৪ - দুনিয়ার শাস্তি ও আল্লাহর দয়া
হদ্দ (শাস্তি) হলো (গুনাহের) কাফফারা
দুনিয়ার শাস্তি, কাফফারা ও আল্লাহর দয়ার শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬০৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬০৪
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَمَّالُ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ أَصَابَ فِي الدُّنْيَا ذَنْبًا فَعُوقِبَ بِهِ فَاللَّهُ أَعْدَلُ مِنْ أَنْ يُثَنِّيَ عُقُوبَتَهُ عَلَى عَبْدِهِ وَمَنْ أَذْنَبَ ذَنْبًا فِي الدُّنْيَا فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ فَاللَّهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ فِي شَىْءٍ قَدْ عَفَا عَنْهُ».
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন পাপ করার পর সেজন্য শাস্তি ভোগ করলে আল্লাহ তাআলা তার সেই বান্দাকে পুনর্বার (একই অপরাধের) শাস্তি দেয়ার বিষয়ে অধিক ন্যায়পরায়ণ। কোন ব্যক্তি দুনিয়াতে পাপকাজ করার পর আল্লাহ তা গোপন করে রাখলেন। আল্লাহ যা উপেক্ষা করেছেন তার জন্য পুনরায় গ্রেফতার করার ব্যাপারে অধিক দয়াপরবশ।
[২৬০৪] তিরমিযী ২৬২৬, রাওদুন নাদীর ৭০৫। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইউনুস আবু ইসহাক সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি তার রেওয়ায়াতে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কিছু সন্দেহ করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭১৭০, ৩২/৪৮৮ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুটি বিষয় বলেছেন। প্রথমত, কেউ দুনিয়াতে পাপ করার পর সেই পাপের শাস্তি ভোগ করলে আল্লাহ তার বান্দাকে একই অপরাধে পুনরায় শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে অধিক ন্যায়পরায়ণ। দ্বিতীয়ত, কেউ পাপ করলে আল্লাহ যদি তা গোপন রাখেন, তবে আল্লাহ যা উপেক্ষা করেছেন তার জন্য আবার ধরার ব্যাপারে অধিক দয়ালু। হাদিসটির মূল বিষয় হলো হদ্দ শাস্তি, কাফফারা, আল্লাহর ন্যায় ও দয়া। এখানে পাপকে ছোট করে দেখানো হয়নি। বরং বোঝানো হয়েছে, আল্লাহর বিচার মানুষের বিচার থেকে অনেক বড় এবং তাঁর দয়া অনেক বিস্তৃত। তাই পাপ গোপন থাকলে অহংকার নয়, বরং তওবা ও লজ্জাবোধ থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ায় শাস্তি ভোগ করা পাপের কাফফারার কারণ হতে পারে।
- আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ; তিনি বান্দার প্রতি অবিচার করেন না।
- গোপন পাপের ক্ষেত্রে আল্লাহর দয়ার কথা হাদিসে এসেছে।
- পাপ গোপন থাকলে তওবা ও নিজেকে সংশোধন করা উচিত।
