২৫/৪১. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৯৮২ - রাসূলের নির্দেশ মানার গুরুত্ব

হজ্জের ইহরাম ভঙ্গ করা

রাসূলের নির্দেশ মানা: হজ্জকে উমরায় করার হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৯৮২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ وَأَصْحَابُهُ فَأَحْرَمْنَا بِالْحَجِّ فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ قَالَ " اجْعَلُوا حَجَّكُمْ عُمْرَةً " . فَقَالَ النَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَحْرَمْنَا بِالْحَجِّ فَكَيْفَ نَجْعَلُهَا عُمْرَةً قَالَ " انْظُرُوا مَا آمُرُكُمْ بِهِ فَافْعَلُوا " . فَرَدُّوا عَلَيْهِ الْقَوْلَ فَغَضِبَ فَانْطَلَقَ حَتَّى دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ غَضْبَانَ فَرَأَتِ الْغَضَبَ فِي وَجْهِهِ فَقَالَتْ مَنْ أَغْضَبَكَ أَغْضَبَهُ اللَّهُ قَالَ " وَمَالِي لاَ أَغْضَبُ وَأَنَا آمُرُ أَمْرًا فَلاَ أُتْبَعُ " .

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ রওনা হলেন। আমরা হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মক্কায় পৌঁছলে তিনি বলেন, তোমাদের হজ্জকে উমরায় পরিণত কর। লোকেরা বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা তো হজ্জের নিয়তে ইহরাম বেঁধেছি, তা কিরূপে উমরায় পরিণত করব? তিনি বলেন, লক্ষ্য কর, আমি তোমাদের যা নির্দেশ করি তা কর। তারা তাদের কথার পুনরাবৃত্তি করলে তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে স্থান ত্যাগ করেন এবং এই অবস্থায় আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট যান। তিনি তাঁর চেহারায় অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করে বলেন, আপনাকে কে অসন্তুষ্ট করেছে, আল্লাহ তাকে অসন্তুষ্ট করুন? তিনি বলেন, আমি কীভাবে অসন্তুষ্ট না হয়ে পারি, আমি কোনো কাজের হুকুম করি, অথচ তা মান্য করা হবে না?

[২৯৮২]হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যইফাহ ৪৭৫৩, যইফ আল-জামি ৬১৩৩। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদীসের রাবী আবু ইসহাক সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু জা'ফার আন-নাহহাস বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় তাদলীস করেন, তার হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি একজন মুদাল্লিস তথা হাদীস বর্ণনায় তাদলীসকারী। আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৪০০, ২২/১০২ নং পৃষ্ঠা) তাছাড়া তিনি বারা' বিন আযিব থেকে হাদীসটি শ্রবণ করেছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৯৮২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মূল শিক্ষা হলো রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মানার গুরুত্ব। সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধে মক্কায় পৌঁছলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তোমাদের হজ্জকে উমরায় পরিণত করো। তাঁরা অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, আমরা তো হজ্জের নিয়তে ইহরাম বেঁধেছি, তা কীভাবে উমরা হবে? নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের বলেন, আমি যা নির্দেশ করি তা করো। কিন্তু তাঁরা আবারও একই কথা বললে তিনি অসন্তুষ্ট হন। পরে আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বলেন, আমি একটি কাজের নির্দেশ দিই, অথচ তা মানা হচ্ছে না—আমি কীভাবে অসন্তুষ্ট না হই? এই বর্ণনা আনুগত্য, ইবাদতের শৃঙ্খলা এবং দ্বিধার সময় সঠিকভাবে মানার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ ইবাদতের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রাখে।
  • দ্বিধা থাকলেও নির্দেশ পরিষ্কার হলে তা মানতে হয়।
  • হজ্জ ও উমরার বিধানে নিজের ধারণার চেয়ে নবীজির নির্দেশ বড়।
  • আনুগত্য না হলে তা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-কে কষ্ট দিয়েছে—এ শিক্ষা এই হাদিসে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন