২৫/৮১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৫১ - হজ্জ, উমরা ও কুরবানির পশু সঙ্গে থাকা
ঋতুবতী নারীর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের অন্য সকল কার্য সম্পাদন করা এবং ওযু ব্যতীত সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা।
হজ্জ ও উমরা: কুরবানির পশু থাকলে ও না থাকলে করণীয়
সহীহ বুখারী : ১৬৫১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬৫১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ قَالَ ح وَقَالَ لِي خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ أَهَلَّ النَّبِيُّ ﷺ هُوَ وَأَصْحَابُهُ بِالْحَجِّ وَلَيْسَ مَعَ أَحَدٍ مِنْهُمْ هَدْيٌ غَيْرَ النَّبِيِّ ﷺ وَطَلْحَةَ وَقَدِمَ عَلِيٌّ مِنْ الْيَمَنِ وَمَعَهُ هَدْيٌ فَقَالَ أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ فَأَمَرَ النَّبِيُّ أَصْحَابَهُ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً وَيَطُوفُوا ثُمَّ يُقَصِّرُوا وَيَحِلُّوا إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ الْهَدْيُ فَقَالُوا نَنْطَلِقُ إِلَى مِنًى وَذَكَرُ أَحَدِنَا يَقْطُرُ فَبَلَغَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ وَلَوْلاَ أَنَّ مَعِي الْهَدْيَ لأحْلَلْتُ وَحَاضَتْ عَائِشَةُ فَنَسَكَتْ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا غَيْرَ أَنَّهَا لَمْ تَطُفْ بِالْبَيْتِ فَلَمَّا طَهُرَتْ طَافَتْ بِالْبَيْتِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ تَنْطَلِقُونَ بِحَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ وَأَنْطَلِقُ بِحَجٍّ فَأَمَرَ عَبْدَ الرَّحْمٰنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ أَنْ يَخْرُجَ مَعَهَا إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرَتْ بَعْدَ الْحَجِّ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জ-এর ইহ্রাম বাঁধেন, তাঁদের মাঝে কেবল নবী (ﷺ) ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না। ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে আগমন করে, তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি [আলী (রাঃ) ] বললেন, নবী (ﷺ) যেরূপ ইহ্রাম বেঁধেছেন, আমি ও সেরূপ ইহ্রাম বেঁধেছি।নবী (ﷺ) সাহাবীগণের মধ্যে যাদের নিকট কুরবানীর পশু ছিল না, তাঁদের ইহ্রামকে ‘উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন, তাঁরা যেন তাওয়াফ করে, চুল ছেঁটে অথবা মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন, (যদি হালাল হয়ে যাই তা হলে) স্ত্রীর সাথে মিলনের পরপরই আমাদের পক্ষে মিনায় যাওয়াটা কেমন হবে! তা অবগত হয়ে নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে অবশ্যই ইহ্রাম ভঙ্গ করতাম।(হজ্জ এর সফরে) ‘আয়েশা (রাঃ) ঋতুবতী হওয়ার কারণে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জ-এর অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন, (ফিরার পথে) ‘আয়েশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই হজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কেবল হজ্জ আদায় করে ফিরছি, তখন নবী (ﷺ) ‘আবদুর রহমান ইব্নু আবূ বকর (রাঃ) -কে নির্দেশ দিলেন, যেন ‘আয়েশা (রাঃ) -কে নিয়ে তান’ঈমে চলে যান, সেখানে গিয়ে ‘উমরাহর ইহ্রাম বাঁধবেন)। ‘আয়েশা (রাঃ) হজ্জের পর ‘উমরাহ আদায় করে নিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে বিদায় হজ্জের একাধিক ঘটনা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم ও সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। যাদের সঙ্গে কুরবানির পশু ছিল না, নবী صلى الله عليه وسلم তাঁদের ইহরামকে উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দেন। তাঁরা তাওয়াফ করবে, চুল ছেঁটে বা মুণ্ডিয়ে হালাল হবে। কিন্তু যাদের সঙ্গে কুরবানির পশু ছিল, তারা হালাল হবে না। সাহাবীদের মনে এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তাঁর সঙ্গে কুরবানির পশু না থাকলে তিনিও হালাল হতেন। এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ)-এর ঋতুমতী হওয়া, পরে পবিত্র হয়ে তাওয়াফ করা এবং তানঈম থেকে উমরা করার ঘটনাও এসেছে। তাই মূল শিক্ষা হলো, হজ্জ-উমরার আমলে অবস্থা অনুযায়ী নির্দেশ আলাদা হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির পশু সঙ্গে থাকা বা না থাকা ইহরামের পরের অবস্থাকে প্রভাবিত করেছে।
- তাওয়াফ ও চুল ছাঁটার পর হালাল হওয়ার নির্দেশ কিছু সাহাবীর জন্য এসেছে।
- ঋতুমতী অবস্থায় আয়েশা (রাঃ) তাওয়াফ ছাড়া অন্য হজ্জের কাজ করেছেন।
- তানঈম থেকে উমরা করার ঘটনাটি এই বর্ণনায় স্পষ্ট এসেছে।
