২৫/৮১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৫২ - নারীদের কল্যাণে অংশগ্রহণ ও ঋতুবতীর অবস্থান
ঋতুবতী নারীর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের অন্য সকল কার্য সম্পাদন করা এবং ওযু ব্যতীত সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা।
ঋতুবতী নারী ও কল্যাণে উপস্থিতি: হাদিসের সহজ শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৬৫২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬৫২
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ كُنَّا نَمْنَعُ عَوَاتِقَنَا أَنْ يَخْرُجْنَ فَقَدِمَتْ امْرَأَةٌ فَنَزَلَتْ قَصْرَ بَنِي خَلَفٍ فَحَدَّثَتْ أَنَّ أُخْتَهَا كَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَدْ غَزَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ غَزْوَةً وَكَانَتْ أُخْتِي مَعَهُ فِي سِتِّ غَزَوَاتٍ قَالَتْ كُنَّا نُدَاوِي الْكَلْمَى وَنَقُومُ عَلَى الْمَرْضَى فَسَأَلَتْ أُخْتِي رَسُولَ اللهِ ﷺ فَقَالَتْ هَلْ عَلَى إِحْدَانَا بَأْسٌ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا جِلْبَابٌ أَنْ لاَ تَخْرُجَ قَالَ لِتُلْبِسْهَا صَاحِبَتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا وَلْتَشْهَدْ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَمَّا قَدِمَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ سَأَلْنَهَا أَوْ قَالَتْ سَأَلْنَاهَا فَقَالَتْ وَكَانَتْ لاَ تَذْكُرُ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَبَدًا إِلاَّ قَالَتْ بِأَبِي فَقُلْنَا أَسَمِعْتِ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ نَعَمْ بِأَبِي فَقَالَ لِتَخْرُجْ الْعَوَاتِقُ ذَوَاتُ الْخُدُورِ أَوْ الْعَوَاتِقُ وَذَوَاتُ الْخُدُورِ وَالْحُيَّضُ فَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ وَيَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ الْمُصَلَّى فَقُلْتُ أَالْحَائِضُ فَقَالَتْ أَوَلَيْسَ تَشْهَدُ عَرَفَةَ وَتَشْهَدُ كَذَا وَتَشْهَدُ كَذَا
হাফসা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আমাদের যুবতীদেরকে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালাফ-এর দুর্গে এলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর বোন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর এক সাহাবীর সহধর্মিণী ছিলেন। যিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, (সেগুলোর মধ্যে) ছয়টি যুদ্ধে আমার বোনও স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর বোন বলেন, আমরা আহত যোদ্ধা ও অসুস্থ সৈনিকদের সেবা করতাম। আমার বোন নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের মধ্যে যার (শরীর উত্তমরূপে আবৃত করার মত) চাদর নেই, সে বের না হলে অন্যায় হবে কি? নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের একজন অপরজনকে তাঁর প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাদরটি দিয়ে দেয়া উচিত এবং কল্যাণমূলক কাজে ও মু’মিনদের দোয়ায় বের হওয়া উচিত।উম্মু ‘আতিয়া (রাঃ) উপস্থিত হলে এ বিষয়ে তাঁর নিকট আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কথা (আমার পিতা উৎসর্গ হোন) ব্যতীত কখনও উচ্চারণ করতেন না। আমি তাঁকে বললাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার পিতা উৎসর্গ হোন।তিনি বললেনঃ যুবতী ও পর্দাশীলা নারীদেরও বের হওয়া উচিত। অথবা বললেনঃ পর্দাশীলা যুবতী ও ঋতুবতীদেরও বের হওয়া উচিত। তাঁরা কল্যাণমূলক কাজে এবং মুসলমানদের দোয়ায় যথাস্থানে উপস্থিত হবে। তবে ঋতুবতী মহিলাগণ সালাতের স্থানে উপস্থিত হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঋতুবতী মহিলাও কি? তিনি বললেনঃ (কেন উপস্থিত হবে না?) তাঁরা কি ‘আরাফার ময়দানে এবং অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না?
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নারীদের বের হওয়া, চাদর ভাগ করে নেওয়া এবং মুসলিমদের দোয়ায় অংশ নেওয়ার কথা এসেছে। এক নারী নবী صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেন, যার চাদর নেই সে না বের হলে সমস্যা কি না। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, অন্য সঙ্গিনী তাকে নিজের অতিরিক্ত চাদর থেকে পরিয়ে দেবে, যেন সে কল্যাণ ও মুমিনদের দোয়ায় উপস্থিত হতে পারে। পরে উম্মু আতিয়া (রাঃ) বলেন, যুবতী, পর্দাশীলা নারী এবং ঋতুবতী নারীরাও বের হবে। তবে ঋতুবতী মহিলারা মুসাল্লার জায়গা থেকে আলাদা থাকবে। শেষে আরাফায় উপস্থিতির কথাও উদাহরণ হিসেবে এসেছে। তাই এই হাদিস নারীর অংশগ্রহণ ও শালীনতার ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চাদর না থাকলে অন্য নারী নিজের অতিরিক্ত চাদর দিয়ে সাহায্য করবে।
- নারীদের কল্যাণমূলক কাজে ও মুসলিমদের দোয়ায় উপস্থিতির কথা এসেছে।
- ঋতুবতী নারীরাও উপস্থিত হতে পারে, তবে মুসাল্লা থেকে আলাদা থাকবে।
- নারীর প্রয়োজন ও শালীনতা—দুটিই হাদিসে বিবেচিত হয়েছে।
