২৫/৩৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৬১ - ঋতুবতী নারীর হজ্জ ও উমরাহর শিক্ষা

তামাত্তু‘, কিরান ও ইফরাদ হজ্জ করা এবং যার সঙ্গে কুরবানির জন্তু নেই তার জন্য হজ্জের ইহরাম পরিত্যাগ করা।

ঋতুবতী নারীর হজ্জ: তাওয়াফ, ইহরাম ও উমরাহর সহজ শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৫৬১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ وَلاَ نُرَى إِلاَّ أَنَّهُ الْحَجُّ فَلَمَّا قَدِمْنَا تَطَوَّفْنَا بِالْبَيْتِ فَأَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْيَ أَنْ يَحِلَّ فَحَلَّ مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْيَ وَنِسَاؤُهُ لَمْ يَسُقْنَ فَأَحْلَلْنَقَالَتْ عَائِشَةُ فَحِضْتُ فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ يَرْجِعُ النَّاسُ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ وَأَرْجِعُ أَنَا بِحَجَّةٍ قَالَ وَمَا طُفْتِ لَيَالِيَ قَدِمْنَا مَكَّةَ قُلْتُ لاَ قَالَ فَاذْهَبِي مَعَ أَخِيكِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهِلِّي بِعُمْرَةٍ ثُمَّ مَوْعِدُكِ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ صَفِيَّةُ مَا أُرَانِي إِلاَّ حَابِسَتَهُمْ قَالَ عَقْرَى حَلْقَى أَوَ مَا طُفْتِ يَوْمَ النَّحْرِ قَالَتْ قُلْتُ بَلَى قَالَ لاَ بَأْسَ انْفِرِي قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ مُصْعِدٌ مِنْ مَكَّةَ وَأَنَا مُنْهَبِطَةٌ عَلَيْهَا أَوْ أَنَا مُصْعِدَةٌ وَهُوَ مُنْهَبِطٌ مِنْهَا

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হলাম এবং একে হজ্জের সফর বলেই আমরা জানতাম। আমরা যখন (মক্কায়) পৌঁছে বাইতুল্লাহ-এর তাওয়াফ করলাম তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেনঃ যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে আসেনি তারা যেন ইহ্‌রাম ছেড়ে দেয়। তাই যিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেননি তিনি ইহ্‌রাম ছেড়ে দেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণীগণ তাঁরা ইহ্‌রাম ছেড়ে দিলেন।‘আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি ঋতুবতী হয়েছিলাম বিধায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারিনি। (ফিরতি পথে) মুহাসসাব নামক স্থানে রাত যাপনকালে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই ‘উমরাহ ও হজ্জ উভয়টি সমাধা করে ফিরছে আর আমি কেবল হজ্জ করে ফিরছি। তিনি বললেনঃ আমরা মক্কা পৌঁছলে তুমি কি সে দিনগুলোতে তওয়াফ করনি? আমি বললাম, জ্বী-না। তিনি বললেন, তোমার ভাই-এর সাথে তান্‌’ঈম চলে যাও, সেখান হতে ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধবে। অতঃপর অমুক স্থানে তোমার সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কী বললে! তুমি কি কুরবানীর দিনগুলোতে তাওয়াফ করনি! সফিয়্যাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ করেছি। তিনি বললেনঃ তবে কোন অসুবিধা নেই, তুমি চল।‘আয়েশা (রাঃ) বলেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এমতাবস্থায় আমার সাক্ষাৎ হলো যখন তিনি মক্কা ছেড়ে উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি মক্কার দিকে অবতরণ করছি। অথবা ‘আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি উঠছি ও তিনি অবতরণ করছেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৬১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হজ্জ সফরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক খুব সহজভাবে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে বের হওয়া সাহাবীগণ প্রথমে সফরটিকে হজ্জের সফর হিসেবেই জানতেন। মক্কায় পৌঁছে যারা কুরবানির পশু সঙ্গে আনেননি, তাঁদের ইহরাম ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাই হজ্জে ইহরাম, তামাত্তু হজ্জ এবং উমরাহর বিষয়টি এখানে স্পষ্ট হয়। আয়েশা (রাঃ) ঋতুবতী হওয়ায় শুরুতে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারেননি। পরে তিনি যখন দেখলেন অন্যরা উমরাহ ও হজ্জ নিয়ে ফিরছে, তখন তাঁর মনে কষ্ট হলো। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে তানঈম থেকে উমরাহর ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। এতে বোঝা যায়, হজ্জের আমলে শারীরিক অবস্থার কারণে কোনো কাজ বিলম্ব হলে সঠিক পদ্ধতিতে তা পূরণ করা যায়। আবার কুরবানির দিনের তাওয়াফ হয়ে গেলে ফিরে যাওয়ার অনুমতিও এই বর্ণনায় এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরবানির পশু সঙ্গে না থাকলে নির্দেশ অনুযায়ী ইহরাম ছাড়ার বিষয়টি এই হাদিসে এসেছে।
  • ঋতুবতী নারী তাওয়াফ না করতে পারলে পরে সঠিক সময়ে তা আদায় করতে পারে।
  • হজ্জ ও উমরাহর কাজে দ্বিধা হলে রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশই অনুসরণযোগ্য।
  • শারীরিক অবস্থার কারণে আমল পিছিয়ে গেলে হতাশ না হয়ে শরিয়তের সহজ পথ নিতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন