২৫/৩১. অধ্যায়ঃ
ঋতু ও প্রসবোত্তর স্রাব অবস্থায় মহিলাগণ কিভাবে ইহরাম বাঁধবে?
أَهَلَّ অর্থ কথা বলা وَاسْتَهْلَلْنَا الْهِلَالَ কথা বলা প্রকাশ পাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত এবং وَاسْتَهْلَّ الْمَطَرُ মেঘ হতে বৃষ্টি হওয়া وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ “যে পশু যবেহ করার সময় আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়।” (আল-মায়িদা: ৩) এ অর্থ اسْتِهْلَالُ الصَّبِيِّ (সদ্যজাত শিশুর আওয়াজ) অর্থ হতে গৃহীত।"
সহিহ বুখারী : ১৫৫৬
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৫৫৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيُهِلَّ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ لاَ يَحِلَّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ هَذِهِ مَكَانَ عُمْرَتِكِ قَالَتْ فَطَافَ الَّذِينَ كَانُوا أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حَلُّوا ثُمَّ طَافُوا طَوَافًا آخَرَ بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى وَأَمَّا الَّذِينَ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوا طَوَافًا وَاحِدًا
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা বিদায় হজ্জের সময় নবী (ﷺ)-এর সাথে বের হয়ে উমরাহর নিয়তে ইহরাম বাঁধি। নবী (ﷺ) বললেনঃ যার সঙ্গে কুরবানির পশু আছে সে যেন উমরাহর সাথে হজ্জের ইহরামও বেঁধে নেয়। অতঃপর সে উমরাহ ও হজ্জ উভয়টি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হতে পারবে না।[আয়েশা (রাঃ) বলেন] এরপর আমি মক্কায় ঋতুবতী অবস্থায় পৌঁছলাম। কাজেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সাঈ কোনোটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ মাথার চুল খুলে নাও এবং তা আঁচড়িয়ে নাও এবং হজ্জের ইহরাম বহাল রাখ এবং উমরাহ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম, হজ্জ সম্পন্ন করার পর আমাকে নবী (ﷺ) আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে 'তানঈম'-এ প্রেরণ করেন। সেখান হতে আমি উমরাহর ইহরাম বাঁধি। নবী (ﷺ) বলেনঃ এ তোমার (ছেড়ে দেয়া) উমরাহর স্থলবর্তী।আয়েশা (রাঃ) বলেন, যাঁরা উমরাহর ইহরাম বেঁধেছিলেন, তাঁরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যান এবং মিনা হতে ফিরে আসার পর দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন আর যাঁরা হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা একটি মাত্র তাওয়াফ করেন।
(২৯৪) (আঃপ্রঃ১৪৫৩, ইঃফাঃ ১৪৫৯)[৫৬]আয়েশা (রাঃ) ‘উমরার জন্য ইহ্রাম বাঁধার পর ঋতুবতী হয়ে পড়লে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে গোসল করার নির্দেশ দেন এবং ‘উমরার ইহ্রাম ছেড়ে দিয়ে হজ্জের ইহ্রাম বাঁধার আদেশ দেন। ফলে হজ্জের পর পাক-সাফ অবস্থায় তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ঋতুর কারণে বাতিল হয়ে যাওয়া উমরার পরিবর্তে নতুনভাবে ‘উমরাহ করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে সেই অনুমতি প্রদান করেন। “হারাম” সীমায় থাকা অবস্থায় যে ব্যক্তি ‘উমরার ইরাদা করবে তাকে হারামের সীমার বাইরে গিয়ে ‘উমরার ইহ্রাম বাঁধতে হবে। এজন্য আয়েশা (রাঃ)-কে তানঈমে পাঠানো হয়েছিল। যা হারামের সীমানার বাইরে অবস্থিত।
