২৬/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮৫ - হজকে উমরায় পরিণত করার নির্দেশ
তানঈম হতে উমরা করা।
হজকে উমরায় পরিণত করা ও কুরবানির পশুর বিধান
সহীহ বুখারী : ১৭৮৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৮৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، عَنْ حَبِيبٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَطَاءٍ، حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَهَلَّ وَأَصْحَابُهُ بِالْحَجِّ وَلَيْسَ مَعَ أَحَدٍ مِنْهُمْ هَدْىٌ، غَيْرَ النَّبِيِّ ﷺ وَطَلْحَةَ، وَكَانَ عَلِيٌّ قَدِمَ مِنَ الْيَمَنِ، وَمَعَهُ الْهَدْىُ فَقَالَ أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ. وَإِنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَذِنَ لأَصْحَابِهِ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً، يَطُوفُوا بِالْبَيْتِ، ثُمَّ يُقَصِّرُوا وَيَحِلُّوا، إِلاَّ مَنْ مَعَهُ الْهَدْىُ، فَقَالُوا نَنْطَلِقُ إِلَى مِنًى وَذَكَرُ أَحَدِنَا يَقْطُرُ فَبَلَغَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ «لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ، وَلَوْلاَ أَنَّ مَعِي الْهَدْىَ لأَحْلَلْتُ». وَأَنَّ عَائِشَةَ حَاضَتْ فَنَسَكَتِ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا، غَيْرَ أَنَّهَا لَمْ تَطُفْ بِالْبَيْتِ قَالَ فَلَمَّا طَهُرَتْ وَطَافَتْ، قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَنْطَلِقُونَ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ، وَأَنْطَلِقُ بِالْحَجِّ فَأَمَرَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ أَنْ يَخْرُجَ مَعَهَا إِلَى التَّنْعِيمِ، فَاعْتَمَرَتْ بَعْدَ الْحَجِّ فِي ذِي الْحَجَّةِ، وَأَنَّ سُرَاقَةَ بْنَ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ لَقِيَ النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ بِالْعَقَبَةِ، وَهُوَ يَرْمِيهَا، فَقَالَ أَلَكُمْ هَذِهِ خَاصَّةً، يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ «لاَ، بَلْ لِلأَبَدِ».
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। নবী (ﷺ) ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত কারো সাথে কুরবানীর পশু ছিলনা। আর ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এলেন এবং তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যে বিষয়ে ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তার ইহ্রাম বাঁধলাম। নবী (ﷺ) এ ইহ্রামকে 'উমরায় পরিণত করতে এবং তাওয়াফ করে এরপরে মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার রয়েছে (তারা হালাল হবে না)।তাঁরা বললেন, আমরা মিনার দিকে রওয়ানা হবো এমতাবস্থায় আমাদের কেউ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এসেছে। এ সংবাদ নবী (ﷺ) -এর নিকটে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি আমি এ ব্যাপার পূর্বে জানতাম, যা পরে জানতে পারলাম, তাহলে কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে আনতাম না। আর যদি কুরবানীর পশু আমার সাথে না থাকত অবশ্যই আমি হালাল হয়ে যেতাম। আর ‘আয়িশা (রাঃ) -এর ঋতু দেখা দিল। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের সব কাজই সম্পন্ন করে নিলেন।রাবী বলেন, এরপর যখন তিনি পাক হলেন এবং তাওয়াফ করলেন, তখন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা তো হজ্জ এবং ‘উমরা উভয়টি পালন করে ফিরছেন, আমি কি শুধু হজ্জ করেই ফিরব? তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ‘আবদুর রহমান ইব্নু আবূ বকর (রাঃ) -কে নির্দেশ দিলেন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে তান‘ঈম যেতে। অতঃপর যুলহজ্জ মাসেই হজ্জ আদায়ের পর ‘আয়িশা (রাঃ) ‘উমরা আদায় করলেন।নবী (ﷺ) যখন জামরাতুল ‘আকাবায় কঙ্কর মারছিলেন তখন সুরাকা ইব্নু মালিক ইব্নু জু‘শুম (রাঃ) -এর নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ হজ্জের মাসে ‘উমরা আদায় করা কি আপনাদের জন্য খাস? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ না, এতো চিরদিনের (সকলের) জন্য।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ, উমরা, কুরবানির পশু এবং তাওয়াফ—সব মিলিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) ও সাহাবীরা হজের ইহরাম বাঁধেন। যাদের সঙ্গে কুরবানির পশু ছিল না, তাঁদেরকে তিনি ইহরামকে উমরায় পরিণত করতে বলেন; তারা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে, চুল ছোট করবে এবং হালাল হবে। কিন্তু যাদের সঙ্গে কুরবানির পশু ছিল, তাদের জন্য ভিন্ন অবস্থা ছিল। একই হাদিসে আয়েশা (রাঃ)-এর ঋতুর কারণে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজের কাজ করা এবং পরে পাক হয়ে তাওয়াফ করার কথা এসেছে। এরপর তিনি তানঈম থেকে উমরা করেন। সুরাকা (রাঃ)-এর প্রশ্নের উত্তরে নবীজি জানান, হজের মাসে উমরা শুধু তাঁদের জন্য নয়; বরং চিরদিনের জন্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির পশু সঙ্গে থাকা বা না থাকা ইহরাম ও হালাল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছিল।
- আয়েশা (রাঃ) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজের অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করেছিলেন।
- হজের মাসে উমরা করার অনুমতি সবার জন্য স্থায়ীভাবে জানানো হয়েছে।
