২৬/৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮৬ - ঋতুর কারণে উমরা বদলে হজ

হজ্জের পর কুরবানি ব্যতীত উমরা আদায় করা।

ঋতুবতী অবস্থায় উমরা থেকে হজ: আয়েশা (রাঃ)-এর ঘটনা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مُوَافِينَ لِهِلاَلِ ذِي الْحَجَّةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُهِلَّ بِعُمْرَةٍ فَلْيُهِلَّ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُهِلَّ بِحَجَّةِ فَلْيُهِلَّ، وَلَوْلاَ أَنِّي أَهْدَيْتُ لأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ ".فَمِنْهُمْ مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ، وَمِنْهُمْ مِنْ أَهَلَّ بِحَجَّةٍ، وَكُنْتُ مِمَّنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ، فَحِضْتُ قَبْلَ أَنْ أَدْخُلَ مَكَّةَ، فَأَدْرَكَنِي يَوْمُ عَرَفَةَ، وَأَنَا حَائِضٌ، فَشَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ " دَعِي عُمْرَتَكِ، وَانْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي، وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ ". فَفَعَلْتُ، فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ أَرْسَلَ مَعِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ إِلَى التَّنْعِيمِ، فَأَرْدَفَهَا، فَأَهَلَّتْ بِعُمْرَةٍ مَكَانَ عُمْرَتِهَا، فَقَضَى اللَّهُ حَجَّهَا وَعُمْرَتَهَا، وَلَمْ يَكُنْ فِي شَىْءٍ مِنْ ذَلِكَ هَدْىٌ، وَلاَ صَدَقَةٌ، وَلاَ صَوْمٌ.

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

যখন যুলহজ্জ মাস আগত প্রায়, তখন আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি ‘উমরা’র ইহ্‌রাম বাঁধতে চায়, সে যেন ‘উমরা’র ইহ্‌রাম বেঁধে নেয়। আর যে ব্যক্তি হজ্জের ইহ্‌রাম বাঁধতে চায় সে যেন হজ্জের ইহ্‌রাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই ‘উমরা’র ইহ্‌রাম বাঁধতাম। তাই তাঁদের কেউ ‘উমরা’র ইহ্‌রাম বাঁধলেন আর কেউ হজ্জের ইহ্‌রাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরা’র ইহ্‌রাম বেঁধেছিলেন, আমি তাঁদের মধ্যে একজন।এরপর মক্কা পৌঁছার আগেই আমার ঋতু দেখা দিল। ‘আরাফার দিবস চলে এল, আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর আমার এ অসুবিধার কথা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর নিকট বললাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরা ছেড়ে দাও। আর বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হজ্জের ইহ্‌রাম বেঁধে নাও। আমি তাই করলাম।মুহাস্‌সাবের রাতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার সাথে আবদুর রহমানকে তান‘ঈম পাঠালেন। (রাবী বলেন) আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁকে সাওয়ারীতে নিজের পিছনে বসিয়ে নিলেন। অতঃপর ‘আয়িশা (রাঃ) আগের ‘উমরা’র স্থলে নতুন ‘উমরা’র ইহ্‌রাম বাঁধলেন। এমনিভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর হজ্জ এবং ‘উমরা উভয়টিই পুরা করালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর কোন ক্ষেত্রেই (দম হিসেবে) কুরবানী বা সদাকাহ দিতে কিংবা সিয়াম পালন করতে হয়নি।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ)-এর ঘটনার আরও বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। তিনি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন, কিন্তু মক্কায় পৌঁছার আগেই তাঁর ঋতু শুরু হয়। আরাফার দিন পর্যন্ত তিনি ঋতুবতী ছিলেন। তিনি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-কে নিজের অসুবিধার কথা জানালে নবীজি তাঁকে উমরা ছেড়ে দিতে, মাথার বেণী খুলে আঁচড়াতে এবং হজের ইহরাম বাঁধতে বলেন। পরে মুহাস্সাবের রাতে তাঁকে আবদুর রহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তানঈমে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি আগের উমরার বদলে নতুন উমরার ইহরাম বাঁধেন। বর্ণনায় আরও এসেছে, এ ঘটনায় কুরবানি, সদাকা বা সিয়াম বাধ্যতামূলক হয়নি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ঋতুর কারণে আয়েশা (রাঃ)-এর উমরার পরিকল্পনা বদলে গিয়েছিল।
  • নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁর জন্য পরে উমরার ব্যবস্থা করে দেন।
  • এই ঘটনার ক্ষেত্রে কুরবানি, সদাকা বা সিয়াম দিতে হয়নি বলে বর্ণনায় এসেছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন