২৯/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩২০ - যায়তুন তেলের বরকত ও ব্যবহার
যায়তুন তৈল
যায়তুন তেলের বরকত: খাওয়া ও দেহে মাখার নববী শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৩২০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৩২০
حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " كُلُوا الزَّيْتَ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ مُبَارَكٌ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যায়তুন তৈল খাও এবং তা দেহে মাখো। কারণ তা বরকতপূর্ণ।
[৩৩২০] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যইফ আল-জামি আস সাগীর ৪২০৩ সেখানে فَإِنَّهُ طىب কথাটি অতিরিক্ত আছে। তাহকীক আলবানীঃ খুবই দুর্বল তবে ৩৭৯ নং হাদিসের অনুরূপে সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, আমি তার মজলিসে বসে জানতে পেরেছি যে, তার মাঝে মিথ্যা রয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনু মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী ও আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবু যুরআহ তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩০৫, ৩৫/৩১ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৩২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যায়তুন তেল সম্পর্কে খুব সহজ দুটি নির্দেশ দিয়েছেন—তা খেতে এবং দেহে মাখতে। হাদিসের মূল শব্দ হলো বরকতপূর্ণ। তাই এখানে মূল শিক্ষা হলো, কিছু খাবার ও প্রাকৃতিক উপাদান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ কল্যাণের কারণ হতে পারে। যায়তুন তেল হাদিসে শুধু খাবার হিসেবে নয়, দেহে ব্যবহারের জিনিস হিসেবেও এসেছে। তবে এই বর্ণনা থেকে অতিরিক্ত চিকিৎসাগত দাবি করা ঠিক নয়। হাদিস যতটুকু বলেছে, ততটুকুই গ্রহণ করা নিরাপদ। তাই যায়তুন তেলের হাদিস, বরকতময় খাবার এবং নববী খাদ্যাভ্যাস—এসব বিষয় বুঝতে এই বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যায়তুন তেল খাওয়া নববী নির্দেশনার মধ্যে এসেছে।
- যায়তুন তেল দেহে মাখার কথাও হাদিসে বলা হয়েছে।
- খাবার ও ব্যবহার্য জিনিসে বরকতের ধারণা ইসলামে আছে।
- হাদিসের বাইরে বাড়তি স্বাস্থ্য দাবি না করাই নিরাপদ।
