৩১/৩৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৫১৮ - বিচ্ছার দংশন থেকে আশ্রয়ের দোয়া
সাপ, বিছা ইত্যাদির দংশনে ঝাড়ফুঁক
বিচ্ছার দংশন থেকে আশ্রয়ের দোয়া: আউযু বিকালিমাতিল্লাহ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৫১৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৫১৮
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ بَهْرَامَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَدَغَتْ عَقْرَبٌ رَجُلاً فَلَمْ يَنَمْ لَيْلَتَهُ فَقِيلَ لِلنَّبِيِّ ـ ﷺ ـ إِنَّ فُلاَنًا لَدَغَتْهُ عَقْرَبٌ فَلَمْ يَنَمْ لَيْلَتَهُ . فَقَالَ " أَمَا إِنَّهُ لَوْ قَالَ حِينَ أَمْسَى أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ - مَا ضَرَّهُ لَدْغُ عَقْرَبٍ حَتَّى يُصْبِحَ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একটি বিছা এক ব্যক্তিকে দংশন করলে ঐ রাতে সে আর ঘুমাতে পারেনি। নবী (ﷺ)-কে বলা হলো, অমুক ব্যক্তিকে বিছায় দংশন করায় সে গত রাতে ঘুমাতে পারেনি। তিনি বলেনঃ আহা, সে যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলতো, “আউযূ বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক” (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের ওয়াসিলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই), তাহলে বিছার দংশন সকাল পর্যন্ত তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারতো না।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৫১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তিকে বিছা দংশন করলে সে রাতে ঘুমাতে পারেনি। বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানানো হলে তিনি বলেন, সে যদি সন্ধ্যায় বলত, “আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক”—অর্থাৎ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের ওসিলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই—তাহলে বিছার দংশন সকাল পর্যন্ত তার কোনো ক্ষতি করতে পারত না। এই হাদিসে সন্ধ্যার দোয়া, আল্লাহর কালামের আশ্রয়, সৃষ্টির অনিষ্ট এবং বিচ্ছার দংশন—এসব বিষয় এসেছে। এখানে নির্দিষ্ট দোয়া ও সময় দুটোই উল্লেখ আছে। তাই মুমিনের জন্য শিক্ষা হলো, সন্ধ্যায় আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্ধ্যায় আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের আশ্রয় চাওয়ার দোয়া এসেছে।
- বিচ্ছার দংশনের ক্ষতি থেকে বাঁচার বিষয়ে নির্দিষ্ট শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
- মুমিন বিপদের আগে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে শেখে।
- দোয়ার শব্দ ও সময় হাদিসে যেমন এসেছে, তেমনভাবে শেখা উচিত।
