৩৩/৫২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৭৮৪ - সূরা ফাতিহা ও বান্দার দোয়া
কুরআন অধ্যয়নের সওয়াব
সূরা ফাতিহার অর্থ ও বান্দার দোয়ার মর্যাদা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৭৮৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৭৮৪
حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ يَقُولُ «قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي شَطْرَيْنِ فَنِصْفُهَا لِي وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ».قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ «اقْرَءُوا يَقُولُ الْعَبْدُ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَمِدَنِي عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ . فَيَقُولُ {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} فَيَقُولُ أَثْنَى عَلَىَّ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ . يَقُولُ {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ } فَيَقُولُ اللَّهُ مَجَّدَنِي عَبْدِي فَهَذَا لِي وَهَذِهِ الآيَةُ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ يَقُولُ الْعَبْدُ {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} يَعْنِي فَهَذِهِ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ وَآخِرُ السُّورَةِ لِعَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ} فَهَذَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি : মহামহিম আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি নামাজকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে আধাআধি ভাগ করে নিয়েছি। সালাতের অর্ধেক আমার এবং অর্ধেক আমার বান্দার। আমার বান্দা যা প্রার্থনা করে তাই তাকে দেয়া হয়। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা পড়ো।বান্দা বলে, আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন : (সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর)। তখন মহামহিম আল্লাহ বলেন আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে, তাই তাকে দেয়া হবে। সে বলে, আর-রহমানির রাহীম (তিনি দয়াময় পরম দয়ালু)। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে তা পাবে। সে বলে, মালিকি ইয়াওমিদ্দীন (প্রতিফল দিবসের মালিক)। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছে।বান্দা বলে : ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন (আমরা কেবল তোমারই ইবাদাত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই)। এটা আমার ও আমার বান্দার জন্য। বান্দা বলে : ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলায়হিম। গায়রিল মাগদূবি আলায়হিম ওয়ালাদ দোয়া-ল্লী-ন (আমাদেরকে সরল ও মজবুত পথ দেখাও। সেই লোকেদের পথ যাদের তুমি নিআমাত দিয়েছো, যারা অভিশপ্ত হয়নি, যারা পথভ্রষ্ট হয়নি)। এটা আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে, তাই সে পাবে।
[৩০১৪] মুসলিম ৩৯৫, তিরমিযী ২৯৫৩, নাসায়ী ৯০৯, ৮২১, আহমাদ ৭২৪৯, ৭৭৭৭, ৯৬১৬, মুওয়াত্তা‘ মালিক ১৮৯। আত তা‘লীকুর রাগীব ২/২১৭।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৭৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা ফাতিহাকে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথনের মতো করে তুলে ধরা হয়েছে। বান্দা যখন “আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন” বলে, আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। “আর-রহমানির রাহীম” বললে আল্লাহ তার গুণগান স্বীকার করেন। “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন” বললে বান্দা আল্লাহর মর্যাদা বর্ণনা করে। এরপর “ইয়্যাকানাবুদু ওয়া ইয়্যাকানাসতাঈন” আয়াতে ইবাদত ও সাহায্য চাওয়ার কথা আসে। শেষে বান্দা সরল পথের দোয়া করে। তাই সূরা ফাতিহা শুধু মুখস্থ পড়া কিছু শব্দ নয়; এতে প্রশংসা, ইবাদত, সাহায্য চাওয়া এবং হিদায়াতের আবেদন একসঙ্গে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা ফাতিহায় আল্লাহর প্রশংসা ও বান্দার দোয়া একত্র হয়েছে।
- নামাজে ফাতিহা পড়া আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্কের অনুভূতি জাগায়।
- হিদায়াত চাওয়া সূরা ফাতিহার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
