৩৪/২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৮৮৮ - সফরের দোয়া ও নিরাপত্তার প্রার্থনা
কোন ব্যক্তি সফরের প্রাক্কালে যে দুআ’ পড়বে
সফরের দোয়া: কষ্ট, ক্ষতি ও মজলুমের বদদোয়া থেকে আশ্রয়
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৮৮৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৮৮৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ يَقُولُ - وَقَالَ عَبْدُ الرَّحِيمِ يَتَعَوَّذُ - إِذَا سَافَرَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ وَالْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْرِ وَدَعْوَةِ الْمَظْلُومِ وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الأَهْلِ وَالْمَالِ». وَزَادَ أَبُو مُعَاوِيَةَ فَإِذَا رَجَعَ قَالَ مِثْلَهَا .
আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরে রওয়ানার প্রাক্কালে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সফরের ব্যর্থতা, প্রাচুর্যের পরে রিক্ততা, নির্যাতিতের বদদোয়া এবং পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদের প্রতি কুদৃষ্টি থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি”। আবূ মুআবিয়ার বর্ণনায় আরো আছে : তিনি ফিরে এসেও অনুরূপ বলতেন।
[৩২২০] মুসলিম ১৩৪৩, তিরমিযী ৩৪৩৯, নাসায়ী ৫৪৯৮, ৫৪৯৯, ৫৫০০, আহমাদ ২০২৪৭, ২০২৫৭ দারিমী ২৬৭২ সহীহ আবূ দাঊদ ২৩৩৮।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৮৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের দোয়া শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সফরে রওয়ানা হওয়ার সময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন সফরের কষ্ট, বিষণ্ণ প্রত্যাবর্তন, প্রাচুর্যের পরে রিক্ততা, অত্যাচারিতের বদদোয়া এবং পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদের খারাপ দৃশ্য থেকে। আবূ মুআবিয়ার বর্ণনায় আছে, তিনি ফিরে এসেও অনুরূপ বলতেন। সফর মানুষের জন্য আনন্দেরও হতে পারে, আবার কষ্ট ও চিন্তার কারণও হতে পারে। এই দোয়া দেখায়, সফরে শুধু পথের নিরাপত্তা নয়; ঘরে থাকা পরিবার, সম্পদ, নিজের অবস্থা এবং অন্যের হক—সব বিষয়ে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া দরকার। সফরের দোয়া মুমিনকে সতর্ক, বিনয়ী ও আল্লাহভরসী করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে বের হওয়ার আগে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল।
- সফরের কষ্ট ও ফিরে আসার দুঃখ থেকে দোয়া করা উচিত।
- মজলুমের বদদোয়া থেকে বাঁচতে অন্যায় থেকে দূরে থাকা দরকার।
