৩৬/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৫১ - উম্মতের জন্য নবীজির তিন দোয়া
যেসব বিপর্যয় সংঘটিত হবে
উম্মতের জন্য তিন দোয়া: আশা, ভয় ও পারস্পরিক যুদ্ধের সতর্কতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯৫১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৫১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ رَجَاءٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ يَوْمًا صَلاَةً فَأَطَالَ فِيهَا فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْنَا - أَوْ قَالُوا - يَا رَسُولَ اللَّهِ أَطَلْتَ الْيَوْمَ الصَّلاَةَ قَالَ " إِنِّي صَلَّيْتُ صَلاَةَ رَغْبَةٍ وَرَهْبَةٍ سَأَلْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لأُمَّتِي ثَلاَثًا فَأَعْطَانِي اثْنَتَيْنِ وَرَدَّ عَلَىَّ وَاحِدَةً سَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُهْلِكَهُمْ غَرَقًا فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يَجْعَلَ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ فَرَدَّهَا عَلَىَّ ".
মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করলেন। তিনি অবসর হলে আমরা বললাম, বা তাঁরা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ আপনি নামাজ দীর্ঘায়িত করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আশাব্যঞ্জক ও ভীতিজনক নামাজ পড়েছি। আমি মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট আমার উম্মতের জন্য তিনটি জিনিস প্রার্থনা করেছি। তিনি আমাকে দু’টি দান করেছেন এবং একটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করলাম যে, তাদের ব্যতীত তাদের শত্রুপক্ষ যেন আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে। তিনি আমাকে এটা দান করলেন। আমি তাঁর নিকট আরো প্রার্থনা করলাম যে, আমার গোটা উম্মতকে যেন পানিতে ডুবিয়ে মারা না হয়। তিনি এটাও আমাকে দান করেছেন। আমি তাঁর নিকট আরো প্রার্থনা করলাম যে, আমার উম্মত যেন পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। তিনি আমার এ প্রার্থনা আমাকে ফেরত দিলেন।
[৩২৮৩] আহমাদ ২১৫৭৭, ২১৬০৩, ২১৬২০। সহীহাহ ১৭২৪।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি দীর্ঘ নামাজের কথা এসেছে। সাহাবীরা নামাজ দীর্ঘ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আশাব্যঞ্জক ও ভীতিজনক নামাজ পড়েছেন। তিনি আল্লাহর কাছে উম্মতের জন্য তিনটি বিষয় চেয়েছিলেন। প্রথমত, বাইরের শত্রু যেন তাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে—এটি তাঁকে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, গোটা উম্মত যেন পানিতে ডুবে ধ্বংস না হয়—এটিও দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উম্মত যেন নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে—এই প্রার্থনা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই হাদিস উম্মতের জন্য নবীজির মমতা দেখায় এবং একই সাথে মুসলিমদের পারস্পরিক সংঘাতের ভয়াবহতা মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূল صلى الله عليه وسلم উম্মতের কল্যাণ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন।
- দোয়া ও নামাজে আশা এবং ভয়—দুটিই থাকতে পারে।
- উম্মতের ভেতরের যুদ্ধ বড় বিপদের বিষয়।
- মুসলিমদের উচিত পারস্পরিক সংঘাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করা।
