৩১/৭১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২২৫৮ - ফিতনা ও নেক আমলের কাফফারা
ফিতনার বন্ধ দরজা ভেঙে যাবে
ফিতনা, নেক আমল ও উমর (রাঃ)-এর দরজা: হাদিসের ব্যাখ্যা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২২৫৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২২৫৮
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، وَحَمَّادٍ، وَعَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، سَمِعُوا أَبَا وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ عُمَرُ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي الْفِتْنَةِ فَقَالَ حُذَيْفَةُ أَنَا . قَالَ حُذَيْفَةُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ يُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْىُ عَنِ الْمُنْكَرِ . فَقَالَ عُمَرُ لَسْتُ عَنْ هَذَا أَسْأَلُكَ وَلَكِنْ عَنِ الْفِتْنَةِ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا . قَالَ عُمَرُ أَيُفْتَحُ أَمْ يُكْسَرُ قَالَ بَلْ يُكْسَرُ . قَالَ إِذًا لاَ يُغْلَقُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ . قَالَ أَبُو وَائِلٍ فِي حَدِيثِ حَمَّادٍ فَقُلْتُ لِمَسْرُوقٍ سَلْ حُذَيْفَةَ عَنِ الْبَابِ فَسَأَلَهُ فَقَالَ عُمَرُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, কোন এক সময় উমর (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, ফিতনা প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যে সকল কথা বলে গেছেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সেগুলোকে বেশি মনে রাখতে সক্ষম হয়েছে? হুযাইফা (রাঃ) বললেন, আমি। তারপর হুযাইফা (রাঃ) বললেন, কোন লোকের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তুতি ও প্রতিবেশীর ক্ষেত্রে যে বিপদ অর্থাৎ ত্রুটি-বিচ্যুতি হয় এগুলোর জন্য সালাত, সাওম, দান-খাইরাত, সৎকাজের প্রতি আদেশ ও মন্দ কাজে বাঁধা দেয়া হচ্ছে কাফফারা স্বরূপ।উমর (রাঃ) তখন বলেন, আমি এ সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করিনি, বরং সেই ফিতনা প্রসঙ্গে যা সমুদ্রের তরঙ্গের ন্যায় মাথা তুলে আসবে। তিনি বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! সেই ফিতনা ও আপনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা আছে। উমর (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, সেই দরজা কি ভাঙ্গা হবে, না খুলে দেয়া হবে? তিনি বলেন বরং তা ভাঙ্গা হবে। তিনি বললেন, তাহলে তো কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তা আর বন্ধ হবে না।আবূ ওয়াইল (রহঃ) বলেন, হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসে আছেঃ আমি মাসরুককে বললাম, আপনি সেই দরজা প্রসঙ্গে হুযাইফা (রাঃ) কে প্রশ্ন করুন। তিনি এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলেন। তিনি (হুযাইফা) উত্তরে বলেন, উমর (রাঃ) হলেন সেই দরজা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২২৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় ফিতনা। উমর (রাঃ) জানতে চান, ফিতনা সম্পর্কে নবীজির কথা কে বেশি মনে রেখেছে। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, পরিবার, সম্পদ, সন্তান ও প্রতিবেশীর বিষয়ে যে ত্রুটি হয়, নামাজ, রোজা, দান, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা তার কাফফারা হয়। কিন্তু উমর (রাঃ) সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বড় ফিতনা সম্পর্কে জানতে চান। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, তার ও সেই ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা আছে। পরে জানা যায়, সেই দরজা ছিলেন উমর (রাঃ)।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ছোট ছোট ত্রুটির জন্য নেক আমল কাফফারা হতে পারে।
- বড় ফিতনা ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- উমর (রাঃ)-এর অবস্থান মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় নিরাপত্তা ছিল।
