৩৬/১৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০০৩ - নারীদের দান ও ইস্তিগফারের নসিহত
নারীদের সৃষ্ট বিপর্যয়
নারীদের দান ও ইস্তিগফার: জিহ্বা ও কৃতজ্ঞতা নিয়ে শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০০৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪০০৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ أَنَّهُ قَالَ «يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ مِنَ الاِسْتِغْفَارِ فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ " .فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ وَمَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ قَالَ «تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبٍّ مِنْكُنَّ " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ قَالَ " أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ فَهَذَا مِنْ نُقْصَانِ الْعَقْلِ وَتَمْكُثُ اللَّيَالِيَ مَا تُصَلِّي وَتُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ فَهَذَا مِنْ نُقْصَانِ الدِّينِ " .
আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে নারী সমাজ! তোমরা অধিক পরিমাণে দান-খয়রাত করো এবং অধিক সংখ্যায় ক্ষমা প্রার্থনা করো। কেননা আমি তোমাদের বহু নারীকে জাহান্নামবাসী দেখেছি।তাদের মধ্যকার এক বুদ্ধিমতী নারী বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কী কসুর যে, আমাদের অধিক সংখ্যক দোযখবাসী হবে?তিনি বলেনঃ তোমরা বেশী বেশী অভিশাপ দাও এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকো।আমি তোমাদের স্বল্পবুদ্ধ ও দ্বীনের ব্যাপারে সংকীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বুদ্ধিমান বিচক্ষণ পুরুষদের উপর বিজয়ী হতে পারঙ্গম আর কাউকে দেখিনি।মহিলা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! বিবেক-বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে কমতি কী?তিনি বলেনঃ বুদ্ধির স্বল্পতা এই যে, তোমাদের দুজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান।আর তোমাদের দ্বীনের স্বল্পতা এই যে, তোমরা কয়েক দিন নামাজ থেকে বিরত থাকো এবং রমাদান মাসের কয়েক দিন রোজা থেকে বিরত থাকো।
[৩৩৩৫] মুসলিম ৮০, আবূ দাঊদ ৪৬৭৯, আহমাদ ৫৩২১। ইরওয়া’ ১৯০, আয যিলাল ৯৫৫, ৯৫৬।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪০০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নারী সমাজকে বেশি দান-খয়রাত করতে এবং বেশি ইস্তিগফার করতে বলেছেন। কারণ হিসেবে তিনি জাহান্নামে বহু নারী দেখার কথা বলেছেন এবং প্রশ্নের উত্তরে দুইটি আচরণের কথা উল্লেখ করেছেন: বেশি অভিশাপ দেওয়া এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ থাকা। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো জিহ্বা সংযত রাখা, কৃতজ্ঞতা শেখা এবং গুনাহ হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। হাদিসে বুদ্ধি ও দ্বীনের কমতির ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে—দুই নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান এবং কিছু দিন নামাজ-রোজা থেকে বিরত থাকা। এখানে সব নারীকে একই দোষে দোষী বলা নয়; বরং যে দুর্বলতাগুলো উল্লেখ হয়েছে সেগুলো থেকে বাঁচার নসিহত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দান ও ইস্তিগফার গুনাহ থেকে ফিরে আসার গুরুত্বপূর্ণ পথ।
- অভিশাপ দেওয়া জিহ্বার বড় ভুল হতে পারে।
- দাম্পত্য জীবনে কৃতজ্ঞতা ও ভালো আচরণ দরকার।
- প্রশ্ন করে দ্বীনের বিষয় বুঝে নেওয়া সাহাবীদের সুন্দর পদ্ধতি ছিল।
