৩৭/৩৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২৭৩ - শিঙ্গায় ফুৎকারের অপেক্ষা
পুনরুত্থানের আলোচনা
শিঙ্গায় ফুৎকার: কেয়ামতের নির্দেশের অপেক্ষায় ফেরেশতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৭৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪২৭৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " إِنَّ صَاحِبَىِ الصُّورِ بِأَيْدِيهِمَا - أَوْ فِي أَيْدِيهِمَا - قَرْنَانِ يُلاَحِظَانِ النَّظَرَ مَتَى يُؤْمَرَانِ " .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শিংগাধারী দু’ ফেরেশতা তাঁদের দু’ হাতে দু’টি শিংগা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন, কখন তাঁদের প্রতি (ফুৎকারের) নির্দেশ আসে।
[৩৬০৫] হাদীসটি একক ভাবে ইমাম ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ১০৭৯।দঈফ আল-জামি ১৮৭২। উক্ত হাদীসের রাবী১ হাজ্জাজ সম্পর্কে আবূ আহমাদ আল-হাকিম বলেন,তিনি আহলে ইলমের কাছে নির্ভরযোগ্য নয়।আবূ বাকর আল-বায়হাকী বলেন,তার হাদীস দলিল দ্বারা গ্রহণযোগ্য নয়।অন্যত্র তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন।আবূ যুররাহ আর রাযী বলেন,তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় তাদলীস করেন।মুহাম্মদ বিন সা’দ তাকে দুর্বল বলেছেন।আহমাদ বিন শুয়াওব আন নাসায়ী বলেন,তিনি দুর্বল,তার হাদীস দলিল দ্বারা গ্রহণযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২,৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা)২.আতিয়্যাহ সম্পর্কে আবূ বাকর আল-বায়হাকী বলেন,তিনি দুর্বল,তারা হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন,তিনি দুর্বল। আবূ যূরআহ আর-রাযী বলেন,তিনি যাচাই বাছাই ছাড়া হাদীস গ্রহণ করেন ও তা বর্ণনা করেন।আহমাদ বিন হাম্বল বলেন,তিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শুয়াওব আন নাসায়ী বলেন,তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন,তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন।ইমাম যাহাবী ও ইমাম দারাকুতনী বলেন,তিনি দুর্বল (তাহযীবুল কামাল ৩৯৫৬,২০/১৪৫ পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কেয়ামতের একটি গুরুতর বিষয় জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শিঙাধারী দুই ফেরেশতা তাঁদের হাতে শিঙা নিয়ে অপেক্ষা করছেন, কখন তাঁদের প্রতি ফুৎকারের নির্দেশ আসে। হাদিসটি কেয়ামতের কাছাকাছি হওয়ার নির্দিষ্ট সময় বলে না; বরং প্রস্তুতির বার্তা দেয়। মানুষের দুনিয়ার ব্যস্ততা অনেক, কিন্তু কেয়ামতের বিষয়টি আল্লাহর নির্দেশে ঘটবে। ফেরেশতাদের অপেক্ষার কথা শুনে বোঝা যায়, আখিরাতের ঘটনা বাস্তব এবং তা অবহেলার বিষয় নয়। এই হাদিস আমাদের মনে করায়, জীবনকে শুধু দুনিয়ার জন্য নয়, হিসাবের দিনের জন্যও প্রস্তুত করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের ঘটনা আল্লাহর নির্দেশে ঘটবে।
- শিঙ্গায় ফুৎকার আখিরাতের বড় নিদর্শন।
- মানুষের উচিত আখিরাতের জন্য প্রস্তুত থাকা।
- দুনিয়ার ব্যস্ততা কেয়ামতের সত্যকে ভুলিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
