৩৭/৩৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২৭৪ - নবীদের মর্যাদা ও শিঙ্গার ফুৎকার
পুনরুত্থানের আলোচনা
নবীদের মর্যাদা: মূসা (আঃ), ইউনুস (আঃ) ও কেয়ামতের শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৭৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪২৭৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ بِسُوقِ الْمَدِينَةِ وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْبَشَرِ. فَرَفَعَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَدَهُ فَلَطَمَهُ قَالَ تَقُولُ هَذَا وَفِينَا رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـفَقَالَ " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ إِلاَّ مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ﴿ فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ رَفَعَ رَأْسَهُ فَإِذَا أَنَا بِمُوسَى آخِذٌ بِقَائِمَةٍ مِنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ فَلاَ أَدْرِي أَرَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلِي أَوْ كَانَ مِمَّنِ اسْتَثْنَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ . وَمَنْ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى فَقَدْ كَذَبَ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মদীনার বাজারে এক ইহূদী বললো, সেই সত্তার শপথ যিনি মূসা (আঃ) কে সমগ্র মানবজাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন। এক আনসারী তার হাত তুলে তাকে সজোরে চড় মেরে বললো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে থাকা অবস্থায় তুমি একথা বলছো! বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট পেশ করা হলে তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ বলেছেনঃ “এবং শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে। ফলে যাদের আল্লাহ ইচ্ছা করবেন তারা ব্যতীত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সকলে মূর্ছিত হয়ে পড়বে। অতঃপর পুনরায় শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে” (সূরা যুমারঃ ৬৮)।আমি হবো মাথা উত্তোলনকারী প্রথম ব্যক্তি। আমি মূসা (আঃ) কে আরশের একটি পায়া ধরে আঁকড়ে ধরা অবস্থায় দেখতে পাবো। আমি জানি না, তিনি কি আমার আগে তাঁর মাথা তুলেছেন, না আল্লাহ তাআলা তাকে অজ্ঞান হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। আর যে ব্যক্তি বলে যে, আমি ইউনুস বিন মাত্তা (আঃ) অপেক্ষা উত্তম, সে মিথ্যা বলে।
[৩৬০৬] মুসলিম ২৩৭৩।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদীনার বাজারের একটি ঘটনা এসেছে। এক ইহুদি মূসা (আঃ)-এর মর্যাদার কথা বললে এক আনসারি তাকে চড় মারে। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গেলে তিনি কেয়ামতের শিঙ্গার ফুৎকারের আয়াত উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তিনি মাথা উঠানো প্রথম ব্যক্তি হবেন, তখন মূসা (আঃ)-কে আরশের একটি পায়া ধরে থাকতে দেখবেন। তিনি জানেন না, মূসা (আঃ) আগে মাথা তুলেছেন, নাকি আল্লাহ তাকে অজ্ঞান হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। শেষে তিনি বলেন, যে বলে আমি ইউনুস বিন মাত্তা (আঃ)-এর চেয়ে উত্তম, সে মিথ্যা বলে। হাদিসটি নবীদের মর্যাদা নিয়ে সীমা না ছাড়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীদের মর্যাদা নিয়ে বাড়াবাড়ি বা অবমাননা করা উচিত নয়।
- কেয়ামতের শিঙ্গার ফুৎকার বড় ভয়াবহ ঘটনা।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মূসা (আঃ)-এর মর্যাদার কথা সতর্কভাবে বলেছেন।
- ইউনুস (আঃ)-এর ব্যাপারে নিজেকে উত্তম বলা থেকে নিষেধ এসেছে।
