০/১০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭৯ - শক্তিশালী মুমিন ও তাকদীর মানার শিক্ষা
তাকদীর (রাঃ) ভাগ্যলিপির বর্ণনা
শক্তিশালী মুমিন: উপকারী কাজে চেষ্টা ও আল্লাহর সাহায্য চাওয়া
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৭৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৭৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّنَافِسِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَلاَ تَعْجِزْ فَإِنْ أَصَابَكَ شَىْءٌ فَلاَ تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا . وَلَكِنْ قُلْ قَدَّرَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ فَإِنَّ " لَوْ " تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, শক্তিশালী মু’মিন দুর্বল মু’মিনের চাইতে উত্তম এবং আল্লাহ্র নিকট অধিক প্রিয়। অবশ্য উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। তুমি তোমার জন্য উপকারী জিনিসের আকাঙ্ক্ষা করো এবং আল্লাহ্র সাহায্য চাও এবং কখনো অক্ষমতা প্রকাশ করো না। তোমার কোন ক্ষতি হলে বলো না, যদি আমি এভাবে করতাম, বরং তুমি বল, আল্লাহ্ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চান তাই করেন। কেননা “লাও” (যদি) শব্দটি শয়তানের তৎপরতার দ্বার খুলে দেয়।
[৭৭] মুসলিম ২৬৬৪, আহমাদ ৮৫৭৩, ৮৬১১। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: ফিযাল ৩৫৬।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়; তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ আছে। এরপর তিনি খুব বাস্তব শিক্ষা দিয়েছেন—যা তোমার জন্য উপকারী, তার প্রতি আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং অক্ষমতা প্রকাশ করো না। কোনো ক্ষতি হলে ‘যদি আমি এমন করতাম’—এভাবে আফসোসের কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। বরং বলতে বলা হয়েছে, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চান তাই করেন। কারণ ‘যদি’ বলা শয়তানের কাজের দরজা খুলে দেয়। হাদিসটি মুমিনকে চেষ্টা, আল্লাহর উপর ভরসা, মানসিক শক্তি এবং তাকদীর মেনে নেওয়ার সুন্দর ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনের শক্তি ও দৃঢ়তা প্রশংসনীয়, তবে দুর্বল মুমিনের মধ্যেও কল্যাণ আছে।
- নিজের জন্য উপকারী বিষয়ে আগ্রহী হওয়া উচিত।
- চেষ্টার সাথে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে।
- ক্ষতির পর অতিরিক্ত ‘যদি’ বলে আফসোসে ডুবে থাকা ঠিক নয়।
