৫/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৮৫৩ - রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সশব্দে আমীন বলা
সশব্দে আমীন বলা।
ফাতিহার শেষে সশব্দে আমীন বলার বর্ণনা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৮৫৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৮৫৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ رَافِعٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ تَرَكَ النَّاسُ التَّأْمِينَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ إِذَا قَالَ " ﴾غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ}». قَالَ «آمِينَ». حَتَّى يَسْمَعَهَا أَهْلُ الصَّفِّ الأَوَّلِ فَيَرْتَجُّ بِهَا الْمَسْجِدُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
লোকেরা আমীন বলা ত্যাগ করেছে। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায যআললীন' বলার পর 'আমীন' বলতেন, এমনকি প্রথম সারির লোকেরা তা শুনতে পেতো এবং এতে মসজিদে প্রতিধ্বনি হতো।
বুখারী ৭৮০-৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২; মুসলিম ৪১০/১-৪, তিরমিযী ২৫০, নাসায়ী ৯২৫-৩০, আবূ দাঊদ ৯৩৫-৩৬, আহমাদ ৭১৪৭, ৭২০৩, ৭৬০৪, ২৭৩৩৮, ২৭২১৫, ৯৫১২, ৯৬০৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৯৫-৯৭, দারিমী ১২৪৫-৪৬, মাজাহ ৮৫১, ৮৫২। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ৯৩৪ যঈফ, ৯৩৫ ৯৭২ সহীহ; জামি সগীর ৬৭২ সহীহ, ৭০৭, ২৩৫৯ সহীহ, ৪৩৬৬ যঈফ, ইবনু মাজাহ ৮৪৬ হাসান সহীহ; নাসায়ী ৮৩০ সহীহ, ৯০৫ যঈফ, ৯২৭, ৯২৯, ৯৩২, ১০৬৪ সহীহ; তিরমিযী ২৪৮ সহীহ; মিশকাত ৮২৫ মুত্তাফাকুন আলাইহি, ৮২৬ সহীহ, ৮৪৫ সহীহ; সহীহ তারগীব ৫১৪, ৫১৬, ৫১৭ সহীহ, ২৬৯ যঈফ; যঈফা ৯৫২ যঈফ; ইবনু খুযাইমাহ ১৮৫৪, ১৫৯৩ সহীহ; সহীহাহ ৪৬৫, যঈফ, আবূ দাউদ ৪৬৬। উক্ত হাদীসের রাবী১. বিশর বিন রাফি' সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি মুনকার ভাবে হাদীস বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদীসের অনুসরণ করা যাবে না।২. আবু আবদুল্লাহ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী ও ইবনুল কাত্তান বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায় না।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৮৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, লোকেরা আমীন বলা ত্যাগ করেছে। অথচ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) “গাইরিল মাগজুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন” বলার পর আমীন বলতেন। বর্ণনায় এসেছে, প্রথম সারির লোকেরা তা শুনতে পেত এবং মসজিদে প্রতিধ্বনি হতো। এখানে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আমীন বলার ধরন সম্পর্কে সরাসরি বর্ণনা আছে। হাদিসটি আমীন বলাকে ফাতিহার শেষে একটি প্রকাশ্য ও শুনতে পাওয়া আমল হিসেবে তুলে ধরে। তবে আমাদের ব্যাখ্যা এখানেই সীমিত রাখা উচিত—হাদিসে যা বলা হয়েছে, সেটিই মূল শিক্ষা। মুসল্লিদের জন্য শিক্ষা হলো, ফাতিহার শেষে আমীন বলার আমলকে অবহেলা না করা এবং ইমামের সঙ্গে শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ফাতিহার শেষে আমীন বলতেন।
- প্রথম সারির লোকেরা তাঁর আমীন শুনতে পেত।
- আমীন বলা ত্যাগ করার বিষয়ে আবু হুরাইরা (রাঃ) সতর্ক করেছেন।
- ফাতিহার শেষে আমীন বলা সালাতের পরিচিত আমল।
