১/৭২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৫ - তালবিয়া
আসমানের দিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উর্ধ্বাগমন এবং সালাত ফরজ হওয়া সম্পর্কে।
তালবিয়া ও বর্ণনায় সতর্কতা: ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৫
حديثُ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَذَكَرُوا الدَّجَّالَ أَنَّهُ قَالَ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لَمْ أَسْمَعْهُ وَلكِنَّهُ قَالَ أَمَّا مُوسَى كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ إِذِ انْحَدَرَ فِي الْوَادِي يُلَبِّي
মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকটে ছিলাম, লোকেরা দাজ্জালের আলোচনা করে বলল যে, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তার দুই চোখের মাঝে (কপালে) কাফির লেখা থাকবে। রাবী বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এ সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে কিছু শুনিনি। অবশ্য তিনি বলেছেনঃ আমি যেন দেখছি মূসা (আঃ) নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছিলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ৩০, হাঃ ১৫৫৫; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৭৩, হাঃ ১৬৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৫-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: তালবিয়া। এই হাদিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব দেখা যায়। লোকেরা দাজ্জালের কপালে “কাফির” লেখা থাকার কথা আলোচনা করছিল। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) স্পষ্ট বললেন, এ বিষয়ে তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم) থেকে কিছু শোনেননি। এরপর তিনি এমন একটি কথা বললেন, যা তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم) থেকে শুনেছেন—মূসা (আ.) যেন নিচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছেন। এখানে মূল শিক্ষা শুধু তালবিয়া নয়; বরং হাদিস বর্ণনায় সতর্ক থাকা। যা শোনা হয়নি, তা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বলা যাবে না। আর যা শোনা হয়েছে, সেটি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা উচিত। এই কারণে হাদিসটি হজ্জ, তালবিয়া এবং বর্ণনার আমানত—তিন দিক থেকেই শিক্ষণীয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে এমন কথা বলা উচিত নয় যা সরাসরি জানা নেই।
- তালবিয়া হজ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বর্ণনায় এসেছে।
- সাহাবীগণ বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও আমানত রক্ষা করেছেন।
