২৮/৩. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮৭ - হত্যার প্রমাণ ও ন্যায়বিচার

পাথর বা কোন ভারী জিনিস দ্বারা কেউ নিহত হলে কিসাস নেয়ার প্রমাণ এবং মহিলাকে হত্যা করার অপরাধে পুরুষকে হত্যা করা।

কিসাস ও ন্যায়বিচার: নির্যাতিত বালিকার ইশারায় সত্য প্রকাশ

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৮৭

حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: عَدَا يَهُودِيٌّ، فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَلَى جَارِيَةٍ، فَأَخَذَ أَوْضَاحًا كَانَتْ عَلَيْهَا، وَرَضَخَ رَأْسَهَا؛ فَأَتَى بِهَا أَهْلُهَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ فِي آخِرِ رَمَقٍ، وَقَدْ أُصْمِتَتْ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَتَلَكِ، فُلاَنٌ لِغَيْرِ الَّذِي قَتَلَهَا، فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا أَنْ لاَ قَالَ، فَقَالَ لِرَجُلٍ آخَرَ غَيْرِ الَّذِي قَتَلَهَا فَأَشَارَتْ أَنْ لاَ، فَقَالَ: فَفُلاَنٌ لِقَاتِلِهَا فَأَشَارَتْ أَنْ نَعَمْ؛ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُضِخَ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْن

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে এক ইয়াহূদী একটি বালিকার উপর নির্যাতন করে তার অলঙ্কারাদি ছিনিয়ে নেয়। আর (পাথর দ্বারা) তার মস্তক চূর্ণ করে। সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার পূর্ব মুহূর্তে তার পরিবারের লোকেরা তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে আসে। তখন সে নিশ্চুপ ছিল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একজন নির্দোষ ব্যক্তির নাম উল্লেখ পূর্বক) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাকে সে হত্যা করেছে? অমুক? সে মাথার ইশারায় বললঃ না। তিনি অন্য এক নিরপরাধ ব্যক্তির নাম ধরে বললেন, তবে কি অমুক? সে ইশারায় জানাল, না। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হত্যাকারীর নাম উল্লেখ করে বললেনঃ তবে অমুক ব্যক্তি মেরেছে কি? সে মাথা নেড়ে বললঃ জি, হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদেশ উক্ত ব্যক্তির মাথা দুই পাথরের মাঝখানে রেখে চূর্ণ করা হলো।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৮ : ত্বালাক (বিবাহ বিচ্ছেদ), অধ্যায় ২৪, হাঃ ৫২৯৫; মুসলিম, পর্ব ২৮ : কামাহ, অধ্যায় ৩, হাঃ ৮৫২

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক বালিকার উপর হওয়া নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এক ইয়াহূদী তার অলঙ্কার নিয়ে নেয় এবং পাথর দিয়ে তার মাথা আঘাত করে। মৃত্যুর আগে তার পরিবার তাকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আনে। তখন সে কথা বলতে পারছিল না। নবী (صلى الله عليه وسلم) একাধিক ব্যক্তির নাম ধরে জিজ্ঞেস করেন; নির্দোষদের ক্ষেত্রে সে মাথা নেড়ে ‘না’ জানায়। হত্যাকারীর নাম বলা হলে সে ইশারায় ‘হ্যাঁ’ জানায়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আদেশে তার বিরুদ্ধে কিসাস কার্যকর হয়। এই হাদিসে মূল শিক্ষা হলো অভিযোগের আগে যাচাই, নির্দোষকে আলাদা করা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অভিযোগের বিষয়ে যাচাই করা জরুরি।
  • নির্দোষ ব্যক্তির নাম এলে বালিকার ইশারা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
  • হত্যাকারী শনাক্ত হওয়ার পর কিসাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
  • ন্যায়বিচারে অপরাধী ও নির্দোষকে আলাদা করা গুরুত্বপূর্ণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন