৬৮/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৯৫ - হত্যার সাক্ষ্য ও কিসাস
ইশারার মাধ্যমে তালাক ও অন্যান্য কাজ।
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُعَذِّبُ اللَّهُ بِدَمْعِ الْعَيْنِ وَلَكِنْ يُعَذِّبُ بِهَذَا فَأَشَارَ إِلَى لِسَانِهِ وَقَالَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ أَشَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيَّ أَيْ خُذِ النِّصْفَ وَقَالَتْ أَسْمَاءُ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُسُوفِ فَقُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا شَأْنُ النَّاسِ وَهِيَ تُصَلِّي فَأَوْمَأَتْ بِرَأْسِهَا إِلَى الشَّمْسِ فَقُلْتُ آيَةٌ فَأَوْمَأَتْ بِرَأْسِهَا أَنْ نَعَمْ وَقَالَ أَنَسٌ أَوْمَأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ إِلَى أَبِي بَكْرٍ أَنْ يَتَقَدَّمَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَوْمَأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ لَا حَرَجَ وَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ أَحَدٌ مِنْكُمْ أَمَرَهُ أَنْ يَحْمِلَ عَلَيْهَا أَوْ أَشَارَ إِلَيْهَا قَالُوا لَا قَالَ فَكُلُوا.ইবন ‘উমার (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ চোখের পানির জন্য শাস্তি দিবেন না; তবে শাস্তি দিবেন এটার জন্য এই বলে তিনি মুখের প্রতি ইশারা করলেন। কা‘ব ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) আমার প্রতি ইশারা করে বললেন: অর্ধেক লও। আসমা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করেন। ‘আয়িশা (রাঃ) সালাত আদায় করছিলেন। এ অবস্থায় আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম ব্যাপার কী? তিনি তাঁর মাথা দ্বারা সূর্যের দিকে ইশারা করলেন।আমি বললাম: কোনো নিদর্শন নাকি? তিনি মাথা নেড়ে বললেন: জি হাঁ। আনাস (রাঃ) বলেন: নবী (ﷺ) তাঁর হাত দ্বারা আবূ বকর (রাঃ)-এর প্রতি ইশারা করে সামনে যেতে বললেন। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন: কোনো দোষ নেই। আবূ কাতাদা (রাঃ) নবী (ﷺ) মুহরিম-এর (ইহরামকারী) শিকার সম্বন্ধে বললেন, তোমাদের কেউ কি তাকে (মুহরিমকে) এ কাজে লিপ্ত হবার আদেশ করেছিল বা শিকারের প্রতি ইঙ্গিত করেছিল? লোকেরা বলল: না। তিনি বললেন, তবে খাও।"
ইশারায় সাক্ষ্য ও কিসাস: বালিকা হত্যার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৫২৯৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৯৫
وَقَالَ الأُوَيْسِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ شُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ عَدَا يَهُودِيٌّ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَلَى جَارِيَةٍ، فَأَخَذَ أَوْضَاحًا كَانَتْ عَلَيْهَا وَرَضَخَ رَأْسَهَا، فَأَتَى بِهَا أَهْلُهَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهْىَ فِي آخِرِ رَمَقٍ، وَقَدْ أُصْمِتَتْ، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ قَتَلَكِ فُلاَنٌ ". لِغَيْرِ الَّذِي قَتَلَهَا، فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا أَنْ لاَ، قَالَ فَقَالَ لِرَجُلٍ آخَرَ غَيْرِ الَّذِي قَتَلَهَا، فَأَشَارَتْ أَنْ لاَ، فَقَالَ " فَفُلاَنٌ ". لِقَاتِلِهَا فَأَشَارَتْ أَنْ نَعَمْ، فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَرُضِخَ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উওয়ায়সী (রহঃ) বলেনঃ ইবরাহীম ইবনু সা‘দ শু‘বাহ ইবনু হাজ্জাজ থেকে, তিনি হিশাম ইবনু যায়দ থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- এর যুগে এক ইয়াহূদী একটি বালিকার উপর নির্যাতন করে তার অলঙ্কারাদি ছিনিয়ে নেয়। আর (পাথর দ্বারা) তার মস্তক চূর্ণ করে। সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পূর্ব মুহূর্তে তার পরিবারের লোকেরা তাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- এর কাছে নিয়ে আসে। তখন সে চুপচাপ ছিল।রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (এক নির্দোষ ব্যক্তির নাম ধরে) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাকে কি অমুক হত্যা করেছে? সে মাথার ইশারায় বললঃ না। তিনি অন্য এক নিরপরাধ লোকের নাম ধরে বললেন, তবে কি অমুক? সে ইশারায় জানাল, না। এবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হত্যাকারীর নাম ধরে বললেনঃ তবে অমুক ব্যক্তি মেরেছে কি? সে মাথা হেলিয়ে বললঃ জি, হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- এর নির্দেশক্রমে উক্ত ব্যক্তির মাথা দু’পাথরের মাঝে রেখে চূর্ণ করা হলো।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি গুরুতর অপরাধের ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে এক ইয়াহুদি একটি বালিকার ওপর নির্যাতন করে তার অলংকার নিয়ে নেয় এবং তার মাথা চূর্ণ করে। পরিবার তাকে শেষ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে নিয়ে আসে। সে তখন কথা বলতে পারছিল না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একে একে কয়েকজনের নাম জিজ্ঞেস করেন। নিরপরাধদের নামে সে মাথার ইশারায় না জানায়। যখন আসল হত্যাকারীর নাম বলা হয়, সে মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানায়। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশে অপরাধীর মাথা দু’পাথরের মাঝে চূর্ণ করা হয়। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো হত্যাকারী শনাক্তকরণ, ইশারার মাধ্যমে তথ্য দেওয়া এবং কিসাস। এখানে শুধু বর্ণিত ঘটনাই ব্যাখ্যার ভিত্তি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপরাধী শনাক্ত করার আগে একাধিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
- আহত বালিকার ইশারা তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
- নিরপরাধদের নাম এলে সে না জানিয়েছে, হত্যাকারীর নাম এলে হ্যাঁ জানিয়েছে।
- গুরুতর অপরাধের বিষয়ে বিচারিক ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।
