২৮/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮৮ - কামড় থেকে হাত বাঁচালে রক্তপণ নেই
কোন আক্রান্ত ব্যক্তি কোন আক্রমণকারীকে প্রতিহত করতে গিয়ে আক্রমণকারী যদি মারা যায় অথবা তার অঙ্গহানি হয় তাহলে কোন দায়-দায়িত্ব নেই।
আত্মরক্ষা ও রক্তপণ: কামড়ের ঘটনায় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ফয়সালা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৮৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৮৮
حديث عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَجُلاً عَضَّ يَدَ رَجُل، فَنَزَعَ يَدَهُ مِنْ فَمِهِ فَوَقَعَتْ ثَنِيَّتَاهُ فَاخْتَصَمُوا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَعَضُّ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ كَمَا يَعَضُّ الْفَحْلُ لاَ دِيَةَ لَكَ
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তির হাত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল। সে তার হাত ঐ ব্যক্তির মুখ থেকে টেনে বের করল। ফলে তার দুইটি দাঁত উপড়ে গেল। তারা নবী (ﷺ)-এর নিকট তাদের মুকাদ্দমা পেশ করল। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইকে কি কামড়াবে যেমন উট কামড়ে থাকে? তোমার জন্য কোন রক্তপণ নেই।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৭: দিয়াত বা রক্তপণ, অধ্যায় ১৮, হাঃ ৬৮৯২; মুসলিম, পর্ব ২৮ : কাসামাহ, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৬৭৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খুব স্পষ্ট একটি বিচারিক ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তির হাত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে। কামড় খাওয়া ব্যক্তি নিজের হাত ছাড়াতে মুখ থেকে হাত টেনে বের করে। এতে কামড়দাতার দু’টি দাঁত পড়ে যায়। তারা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিষয়টি নিয়ে যায়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তোমাদের কেউ কি তার ভাইকে উটের মতো কামড়াবে? তারপর তিনি বলেন, তোমার জন্য কোনো রক্তপণ নেই। এখানে মূল শিক্ষা হলো, আক্রমণকারী নিজে অন্যের ক্ষতি শুরু করলে, আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের হাত বাঁচাতে যে ক্ষতি ঘটল, তার জন্য সে রক্তপণের দায়ী হলো না। হাদিসটি আত্মরক্ষা, আক্রমণ ঠেকানো এবং ন্যায্য দায় নির্ধারণের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যকে কামড়ে ধরা অন্যায় আচরণ।
- আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করেছে।
- আক্রমণকারীর দাঁত পড়লেও তার জন্য রক্তপণ নির্ধারণ করা হয়নি।
- বিচারে আগে কে আক্রমণ করেছে তা দেখা জরুরি।
