৩০/৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১১৯ - রাগের অবস্থায় বিচার নয়
রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকের বিচার করা অপছন্দনীয়।
রাগের অবস্থায় বিচার করা যাবে না: ন্যায়বিচারের সহজ নীতি
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১১৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১১৯
حديث أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى ابْنِهِ، وَكَانَ بِسِجِسْتَانَ، بِأَنْ لاَ تَقْضِيَ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَأَنْتَ غَضْبَانُ، فَإِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لاَ يَقْضِيَنَّ حَكَمٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ বাক্রাহ (রাঃ) তাঁর ছেলেকে লিখে পাঠালেন- সে সময় তিনি সিজিস্তানে অবস্থানরত ছিলেন যে, তুমি রাগের অবস্থায় বিবদমান দুই ব্যক্তির মাঝে ফায়সালা করো না। কেননা, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কোন বিচারক রাগের অবস্থায় দুইজনের মধ্যে বিচার করবে না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯৩ : আহকাম, অধ্যায় ১৩, হাঃ ৭১৫৮; মুসলিম, পর্ব ৩০: বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৭১৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ বাকরাহ (রাঃ) তাঁর ছেলেকে লিখে পাঠান, সে যেন রাগের অবস্থায় দুই বিবদমান ব্যক্তির মাঝে ফায়সালা না করে। কারণ তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন, কোনো বিচারক রাগের অবস্থায় দুইজনের মধ্যে বিচার করবে না। রাগ মানুষের চিন্তা, ভাষা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বিচারকের জন্য শান্ত মন, সংযম এবং মনোযোগ দরকার। হাদিসটি শুধু আদালতের বিচারকের জন্য নয়; পরিবার, কাজের জায়গা বা সমাজে যারা সিদ্ধান্ত দেয় তাদের জন্যও শিক্ষা রাখে—তবে হাদিসের সরাসরি ভাষা বিচারকের ব্যাপারে। মূল কীওয়ার্ড হলো রাগের অবস্থায় বিচার, বিচারকের আদব এবং ন্যায়বিচার হাদিস।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগের অবস্থায় বিচার করতে নিষেধ করা হয়েছে।
- বিচারকের শান্ত ও সংযত থাকা জরুরি।
- রাগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে—এ বিষয়ে সতর্কতা আছে।
- বিবাদের ফায়সালায় মানসিক ভারসাম্য দরকার।
