৩২/২২. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৫৬ - খন্দক শেষে বনূ কুরাইযার দিকে যাত্রা

চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যস্থতায় দুর্গের লোকেদের আত্মসমর্পণ করানো জায়িজ।

খন্দক যুদ্ধ ও বনূ কুরাইযা: সা‘দ রাঃ-এর রায়ের হাদিস

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১৫৬

حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: أُصِيبَ سَعْدٌ يَوْمَ الْخَنْدَقِ، رَمَاهُ رَجُلٌ مِنْ قَرَيْشٍ يُقَالُ لَهُ حِبَّانُ بْنُ الْعَرِقَةِ، رَمَاهُ فِي الأَكْحَلِ، فَضَرَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْمَةً فِي الْمَسْجِدِ لِيَعُودَهُ مِنْ قَرِيبٍ، فَلمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْخَنْدَقِ وَضَعَ السِّلاَحَ واغْتَسَلَ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَهُوَ يَنْفُضُ رَأْسَهُ مِنَ الْغُبَارِ، فَقَالَ: قَدْ وَضَعْتَ السِّلاَحَ وَاللهِ مَا وَضَعْتُهُ، اخْرُجْ إِلَيْهِمْ قَالَ النَبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَأَيْنَ فَأَشَارَ إِلَى بَنِي قُرَيْظَةَ، [ص: 216]فَأَتَاهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَزَلُوا عَلَى حُكْمِهِ، فَرَدَّ الْحُكْمَ إِلَى سَعْدٍ قَالَ: فَإِنِّي أَحْكُمُ فِيهِمْ أَنْ تُقْتلَ الْمُقَاتِلَةُ، وَأَنْ تُسْبَى النِّسَاءُ وَالذُّرِّيَّةُ، وَأَنْ تُقْسَمَ أَمْوَالُهُمْ

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

খন্দকের যুদ্ধে সা‘দ (রাঃ) আহত হয়েছিলেন। কুরাইশ গোত্রের হিব্বান ইবনু ইরকা নামক এক ব্যক্তি তাঁর উভয় বাহুর মধ্যবর্তী রগে তীর বিদ্ধ করেছিল। নিকট থেকে তাঁর সেবা করার জন্য নবী (ﷺ) মসজিদে নববীতে একটি তাঁবু তৈরি করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে যখন হাতিয়ার রেখে গোসল শেষ করলেন, তখন জিব্রীল (আঃ) তাঁর মাথার ধুলাবালি ঝাড়তে ঝাড়তে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে হাজির হলেন। এবং বললেন, আপনি হাতিয়ার রেখে দিয়েছেন, কিন্তু আল্লাহ্‌র কসম! আমি এখনো তা রেখে দেইনি। চলুন তাদের প্রতি। নবী (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন কোথায়? তিনি বানী কুরাইযা গোত্রের প্রতি ইশারা করলেন।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু কুরাইযার মহল্লায় এলেন। অবশেষে তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ফয়সালা মান্য করে দুর্গ থেকে নিচে নেমে এল। কিন্তু তিনি ফয়সালার ভার সা‘দ (রাঃ)-এর উপর ন্যস্ত করলেন। তখন সা‘দ (রাঃ) বললেন, তাদের ব্যাপারে আমি এই ফয়সালা দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হবে, নারী ও সন্তানদেরকে বন্দী করা হবে এবং তাদের ধন-সম্পদ বণ্টন করা হবে।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৩০, হাঃ ৪১২২; মুসলিম, পর্ব ৩২; জিহাদ, অধ্যায় ২২, হাঃ ১৭৬৯

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৫৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় খন্দক যুদ্ধের পর বনূ কুরাইযার ঘটনা। সা‘দ রাঃ খন্দকের দিনে আহত হয়েছিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর সেবা সহজ করার জন্য মসজিদে একটি তাঁবু তৈরি করান। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খন্দক থেকে ফিরে অস্ত্র রেখে গোসল করেন। তখন জিব্রীল আঃ এসে বলেন, আপনি অস্ত্র রেখেছেন, কিন্তু আমি রাখিনি; তাদের দিকে চলুন। তিনি বনূ কুরাইযার দিকে ইশারা করেন। নবী صلى الله عليه وسلم সেখানে যান। তারা রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর ফায়সালা মানতে দুর্গ থেকে নেমে আসে। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم রায়ের দায়িত্ব সা‘দ রাঃ-এর হাতে দেন। সা‘দ রাঃ বলেন, তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করা হবে, নারী ও সন্তান বন্দী হবে এবং সম্পদ বণ্টন হবে। এই হাদিসে যুদ্ধ-পরবর্তী নির্দেশ, আহত সাহাবির সেবা, দায়িত্ব দেওয়া এবং ফায়সালার কথা এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আহত সা‘দ রাঃ-এর কাছে থেকে সেবা করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
  • জিব্রীল আঃ বনূ কুরাইযার দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
  • রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ফায়সালার দায়িত্ব সা‘দ রাঃ-এর হাতে দেন।
  • সা‘দ রাঃ যোদ্ধা, পরিবার ও সম্পদ বিষয়ে রায় দেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন