৩৩/৮. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২০৫ - বৈধ কাজে আনুগত্যের সীমা
পাপকর্ম ছাড়া আমীরের আনুগত্য করা ওয়াজিব ও পাপকর্মে আনুগত্য হারাম।
বৈধ কাজে আনুগত্য: আল্লাহর নাফরমানীতে আনুগত্য নেই
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২০৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২০৫
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ فِيمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ، مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِمَعْصِيَةٍ؛ فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلاَ سَمْعَ وَلاَ طَاعَةَ
আবদুল্লাহ্ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্র নাফরমানীর নির্দেশ দেয়া না হয়, ততক্ষণ পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় সব বিষয়ে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তার মান্যতা ও আনুগত্য করা কর্তব্য। যখন নাফরমানীর নির্দেশ দেয়া হয়, তখন আর কোন মান্যতা ও আনুগত্য নেই।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯৩ : আহকাম, অধ্যায় ৪, হাঃ ৭১৪৪; মুসলিম, পর্ব ৩৩: ইমারাত বা নেতৃত্ব, অধ্যায় ৮, হাঃ ১৮৩৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২০৫-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: বৈধ আনুগত্য। এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) আনুগত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা বলে দিয়েছেন। মুসলিম ব্যক্তি পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় বিষয়ে শুনবে ও মানবে, যতক্ষণ তাকে আল্লাহর নাফরমানীর নির্দেশ দেওয়া না হয়। কিন্তু যখন নাফরমানীর নির্দেশ আসে, তখন আর শোনা ও মানার বাধ্যতা থাকে না। এই কথা খুব ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে এটি সমাজ ও নেতৃত্বের শৃঙ্খলা শেখায়, অন্যদিকে আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে কোনো আদেশ মানতে নিষেধ করে। তাই নেতার আনুগত্য হাদিস, আল্লাহর নাফরমানী, এবং বৈধ কাজে আনুগত্য—এই তিনটি বিষয় এখানে একসঙ্গে বোঝা যায়। মুসলিমের আনুগত্য অন্ধ নয়; তা আল্লাহর সীমার ভেতরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পছন্দ বা অপছন্দ হলেও বৈধ কাজে আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
- আল্লাহর নাফরমানীর আদেশ এলে তা মানার অনুমতি নেই।
- আনুগত্যের সীমা আল্লাহর হুকুমের মাধ্যমে নির্ধারিত।
- শৃঙ্খলা ও দ্বীনের সীমা—দুই বিষয়ই রক্ষা করতে হয়।
