৩৩/৮. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২০৭ - বাইআত, আনুগত্য ও স্পষ্ট কুফর
পাপকর্ম ছাড়া আমীরের আনুগত্য করা ওয়াজিব ও পাপকর্মে আনুগত্য হারাম।
বাইআত ও আনুগত্য: সুখে-দুঃখে দায়িত্বের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২০৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২০৭
حديث عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ جُنَادةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَهُوَ مَرِيضٌ، قُلْنَا: أَصْلَحَكَ اللهُ، حَدِّثْ بِحَدِيثٍ يَنْفَعُكَ اللهُ بِهِ، سَمِعْتَهُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: دَعَانَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَايَعْنَاهُ، فَقَالَ فِيمَا أَخَذَ عَلَيْنَا، أَنْ بَايَعَنَا [ص: 247] عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِي مَنْشَطِنَا وَمَكْرَهِنَا وَعُسْرِنَا وَيُسْرِنَا وَأُثْرَةٍ عَلَيْنَا، وَأَنْ لاَ نُنَازِعَ الأَمْرَ أَهْلَهُ إِلاَّ أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ مِنَ اللهِ فِيهِ بُرْهَانٌ
জুনাদাহ ইব্নু আবূ উমাইয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ‘উবাদাহ ইব্নু সামিত (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। আমরা বললাম, আল্লাহ্ আপনাকে সুস্থ করে দিন। আপনি আমাদের এরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করুন, যা আপনাকে উপকৃত করবে এবং যা আপনি নবী (ﷺ) থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন, নবী (ﷺ) আমাদের আহ্বান করলেন। আমরা তাঁর কাছে বাই‘আত করলাম।এরপর তিনি (‘উবাদাহ) বললেন, আমাদের থেকে যে অঙ্গীকার তিনি গ্রহণ করেছিলেন তাতে ছিল যে, আমরা আমাদের সুখে-দুঃখে, বেদনায় ও আনন্দে এবং আমাদের উপর অন্যকে অগ্রাধিকার দিলেও পূর্ণাঙ্গরূপে শোনা ও মানার উপর বাই‘আত করলাম। আরও (বাই‘আত করলাম) যে আমরা ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হব না। কিন্তু যদি এমন স্পষ্ট কুফ্রী দেখ, তোমাদের নিকট আল্লাহ্র পক্ষ থেকে যে বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান, তবে ভিন্ন কথা।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯২ : ফিতনা, অধ্যায় ২, হাঃ ৭০৫৫-৭০৫৬; মুসলিম, পর্ব ২৯ : হুদূদ, অধ্যায় ৯, হাঃ ১৭০৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২০৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: বাইআত। এই হাদিসে উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে করা বাইআতের কথা বলেন। সেই বাইআতে ছিল সুখে-দুঃখে, কষ্টে-সুখে, পছন্দ-অপছন্দে শোনা ও মানা। এমনকি নিজেদের উপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও আনুগত্যের অঙ্গীকার ছিল। আরও ছিল, ক্ষমতার বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সংঘর্ষে না জড়ানো। তবে একটি ব্যতিক্রম বলা হয়েছে: যদি স্পষ্ট কুফর দেখা যায় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সে বিষয়ে পরিষ্কার প্রমাণ থাকে। তাই এই হাদিস শাসক, আনুগত্য, ধৈর্য এবং সীমার বিষয় শেখায়। এখানে আবেগ নয়; বরং প্রমাণভিত্তিক অবস্থানের কথা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাইআতে সুখ-দুঃখে শোনা ও মানার অঙ্গীকার ছিল।
- নিজেদের উপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও ধৈর্যের শিক্ষা আছে।
- ক্ষমতা নিয়ে সংঘর্ষে না জড়ানোর নির্দেশ এসেছে।
- স্পষ্ট কুফর হলে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরিষ্কার প্রমাণের কথা বলা হয়েছে।
