৩৩/১৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২১২ - আমীরের অপছন্দনীয় কাজে ধৈর্য
ফিতনা প্রকাশ পাওয়ার সময় (মুসলিমদের) জামাআতবদ্ধ থাকার অপরিহার্যতা এবং কুফরির প্রতি আহ্বান থেকে সতর্কীকরণ।
আমীরের কিছু অপছন্দ হলে ধৈর্য: আনুগত্য থেকে সরে না যাওয়া
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২১২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২১২
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ كَرِهَ مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا فلْيَصْبِرْ؛ فَإِنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنَ السُّلْطَانِ شِبْرًا مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি আমীরের কোন কিছু অপছন্দ করে, তাহলে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা, যে ব্যক্তি সুলতানের আনুগত্য থেকে এক বিঘত পরিমাণও সরে যাবে, তার মৃত্যু হবে জাহিলি যুগের মৃত্যুর ন্যায়।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯২: ফিতনা, অধ্যায় ২, হাঃ ৭০৫৩; মুসলিম ৩৩, অধ্যায় ১৩, হাঃ ১৮৪৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২১২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ধৈর্য। এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, কেউ যদি নিজের আমীরের কোনো কিছু অপছন্দ করে, সে যেন ধৈর্য ধরে। কারণ যে ব্যক্তি সুলতানের আনুগত্য থেকে এক বিঘত পরিমাণও সরে যায়, তার মৃত্যু জাহিলি যুগের মৃত্যুর মতো হবে। এই হাদিসের ভাষা খুব সতর্কতামূলক। এখানে অপছন্দনীয় বিষয় দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা বা বিদ্রোহী মানসিকতার দিকে না যাওয়ার শিক্ষা আছে। তবে একই অধ্যায়ের অন্য হাদিসে এসেছে, আল্লাহর নাফরমানীর আদেশে আনুগত্য নেই। তাই এই হাদিসের শিক্ষা হলো ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং হঠকারী বিচ্ছিন্নতা থেকে বেঁচে থাকা। আমীরের আনুগত্য হাদিস হিসেবে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমীরের কোনো বিষয় অপছন্দ হলে ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে।
- আনুগত্য থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- মুসলিম সমাজে শৃঙ্খলার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
- অপছন্দের কারণে হঠকারী অবস্থান নেওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
