৩৩/১৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২১১ - ফিতনা থেকে বাঁচার পথ
ফিতনা প্রকাশ পাওয়ার সময় (মুসলিমদের) জামাআতবদ্ধ থাকার অপরিহার্যতা এবং কুফরির প্রতি আহ্বান থেকে সতর্কীকরণ।
ফিতনা থেকে বাঁচার পথ: মুসলিমদের জামা‘আত আঁকড়ে ধরা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২১১
حديث حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ يَقُولُ: كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْخَيْرِ، وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ، فَجَاءَنَا اللهُ بِهذَا الْخَيْرِ، فَهَلْ بَعْدَ هذَا الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ قَالَ: نَعَمْ قُلْتُ: وَهَلْ بَعْدَ ذلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍقَالَ: نَعَمْ، وَفِيهِ دَخَنٌ قُلْتُ: وَمَا دَخَنُهُ قَالَ: قَوْمٌ يَهْدُونَ بَغَيْرِ هَدْيي، تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ قُلْتُ: فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ قَالَ: نَعَمْ، دُعَاةٌ إِلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ، مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صِفْهُمْ لَنَا فَقَالَ: هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا، وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا قُلْتُ: فَمَا تَأْمُرُنِي، إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ قَالَ: تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلاَ إِمَامٌ قَالَ: فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا، وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذلِكَ
হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
লোকজন নবী (ﷺ)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম; এই ভয়ে যেন আমি ঐ সবের মধ্যে পড়ে না যাই। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আমরা জাহিলীয়্যাতে অকল্যাণকর অবস্থায় জীবন যাপন করতাম অতঃপর আল্লাহ আমাদের এ কল্যাণ দান করেছেন। এ কল্যাণকর অবস্থার পর আবার কোন অকল্যাণের আশঙ্কা আছে কি? তিনি বললেন, হাঁ, আছে।আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঐ অকল্যাণের পর কোন কল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হাঁ, আছে। তবে তা মন্দ মেশানো। আমি বললাম, মন্দ মেশানো কী? তিনি বললেন, এমন একদল লোক যারা আমার সুন্নাত ত্যাগ করে অন্যপথে পরিচালিত হবে। তাদের কাজে ভাল-মন্দ সবই থাকবে। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কি আরো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন, হাঁ তখন জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারীদের উদ্ভব ঘটবে। যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে তাকেই তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তারা আমাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত এবং কথা বলবে আমাদেরই ভাষায়। আমি বললাম, আমি যদি এ অবস্থায় পড়ে যাই তাহলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ দেন? তিনি বললেন, মুসলিমদের এমন দল ও তাদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, যদি মুসলিমদের এহেন দল ও ইমাম না থাকে? তিনি বলেন, তখন তুমি তাদের সকল দল উপদলের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবে এবং মৃত্যু না আসা পর্যন্ত বৃক্ষমূল দাঁতে আঁকড়ে ধরে হলেও তোমার দ্বীনের উপর থাকবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬১; মর্যাদা ও গুণাবলী, অধ্যায় ২৫, হাঃ ৬০৬; মুসলিম, পর্ব ৩৩; ইমারাত বা নেতৃত্ব, অধ্যায় ১৩, হাঃ ১৮৪৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২১১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ফিতনা। হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) মানুষ যেমন কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন, তিনি অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন যেন তাতে না পড়েন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে জানান, কল্যাণের পর অকল্যাণ আসবে, আবার মন্দ মেশানো কল্যাণও আসবে। এমন লোক থাকবে যারা নবীর পথ ছাড়া অন্য পথে চালাবে; তাদের কাজে ভালো-মন্দ দুটোই থাকবে। এরপর আরও অকল্যাণের কথা বলা হয়: জাহান্নামের দরজার দিকে ডাকার লোকেরা আসবে, তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের এবং নিজেদের ভাষায় কথা বলবে। এমন সময়ে নবী (صلى الله عليه وسلم) মুসলিমদের জামা‘আত ও ইমাম আঁকড়ে ধরতে বলেন। আর যদি জামা‘আত ও ইমাম না থাকে, সব দল থেকে দূরে থেকে দ্বীনের উপর থাকার নির্দেশ দেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অকল্যাণ সম্পর্কে জানা কখনো কখনো তা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।
- নবীর সুন্নাত ছেড়ে অন্য পথে চলা বিপজ্জনক।
- ফিতনার সময় মুসলিমদের জামা‘আত ও ইমামকে আঁকড়ে ধরতে বলা হয়েছে।
- জামা‘আত ও ইমাম না থাকলে বিভক্ত দলগুলো থেকে দূরে থাকার নির্দেশ আছে।
