১/৮৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৪ - সাফা পাহাড়ের সতর্কবার্তা
আল্লাহ তা‘আলার বাণী প্রসঙ্গে: তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দের ভয় প্রদর্শন কর।
সাফা পাহাড়ের দাওয়াত: আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্কবার্তা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৪
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ ﴾وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ﴿ وَرَهْطَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ، خَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى صَعِدَ الصَّفَا فَهَتفَ: يَا صَبَاحَاهْ فَقَالُوا مَنْ هذَا فَاجْتَمَعُوا إِلَيْهِ فَقَالَ: أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خَيْلاً تَخْرُجُ مِنْ سَفْحِ هذَا الْجَبَلِ أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ قَالُوا مَا جَرَّبْنَا عَلَيْكَ كَذِبًا، قَالَ: فَإِنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ، قالَ أَبُو لَهَبٍ: تَبًّا لَكَ مَا جَمَعْتَنَا إِلاَّ لِهذَا ثُمَّ قَامَ فَنَزَلَتْ (تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ “তুমি তোমার কাছের আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক করে দাও” আয়াতটি নাযিল হলে রাসূল (ﷺ) বের হয়ে সাফা পাহাড়ে গিয়ে উঠলেন এবং يَا صَبَاحَاهْ “সকাল বেলার বিপদ সাবধান” বলে উচ্চৈঃস্বরে ডাক দিলেন। আওয়াজ শুনে তারা বলল, এ কে? অতঃপর সবাই তাঁর কাছে গিয়ে সমবেত হল।তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে বলি, একটি অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী এ পাহাড়ের পেছনে তোমাদের উপর হামলার করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? সকলেই বলল, আপনার মিথ্যা বলার ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি। এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্র করেছ? অতঃপর আবূ লাহাব উঠে চলে গেল।অতঃপর নাযিল হলঃ تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও।”
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫; তাফসীর, অধ্যায় ১১১, হাঃ ৪৯৭১;মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৮৯, হাঃ ২০৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দাওয়াতের এক শক্তিশালী দৃশ্য এসেছে। নিকট আত্মীয়দের সতর্ক করার আয়াত নাজিল হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাফা পাহাড়ে উঠলেন এবং মানুষকে ডাকলেন। তিনি এমন উদাহরণ দিলেন, যদি পাহাড়ের পেছনে অশ্বারোহী বাহিনী থাকে, তবে তারা কি তাঁকে বিশ্বাস করবে? সবাই বলল, তাঁকে কখনো মিথ্যাবাদী হিসেবে পায়নি। এরপর তিনি জানালেন, তিনি আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ককারী। আবূ লাহাব বিরূপ কথা বলল, তারপর তার বিষয়ে আয়াত নাজিল হলো। এই হাদিসে সত্যবাদিতা, সতর্ক করা এবং দাওয়াতের দায়িত্ব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাওয়াতের আগে সত্যবাদী চরিত্র মানুষের আস্থা তৈরি করে।
- আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করা নবীজির দায়িত্বের অংশ ছিল।
- সত্য কথা শুনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এলেও সতর্কবার্তা পৌঁছানো জরুরি।
