৩৪/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৬১ - জায়শুল খাবাত ও আল্লাহর রিজিক
সাগরের মৃত (বৈধ) জন্তু খাওয়া বৈধ।
জায়শুল খাবাতের ঘটনা: কষ্টের সময় আল্লাহর রিজিক
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৬১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৬১
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: بَعَثَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثَمِائَةِ رَاكِبٍ، أَمِيرُنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ، نَرْصُدُ عِيرَ قُرَيْشٍ، فَأَقَمْنَا بِالسَّاحِلِ نِصْفَ شَهْرٍ، فَأَصَابَنَا جُوعٌ شَدِيدٌ حَتَّى أَكَلْنَا الْخَبَطَ، فَسُمِّيَ ذَلِكَ الْجَيْشُ جَيْشَ الْخَبَطِ فَأَلْقَى لَنَا الْبحْرُ [ص: 268] دَابَّةً يُقَالُ لَهَا الْعَنْبَرُ، فَأَكَلْنَا مِنْهُ نِصْفَ شَهْرٍ، وَادَّهَنَّا مِنْ وَدَكِهِ، حَتَّى ثَابَتْ إِلَيْنَا أَجْسَامُنَا فَأَخَذَ أَبُو عُبَيْدَةَ ضِلَعًا مِنْ أَضْلاَعِهِ فَنَصَبَهُ، فَعَمَدَ إِلَى أَطْوَلِ رَجُلٍ مَعَهُ، وَأَخَذَ رَجُلاً وَبَعِيرًا فَمَرَّ تَحْتَهقَالَ جَابِرٌ: وَكَانَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ ثُمَّ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ ثُمَّ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ ثُمَّ إِنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ نَهَاهُ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তিনশ’ সওয়ারীর একটি সৈন্যবাহিনীকে কুরাইশদের একটি কাফেলার উপর সুযোগ মতো আক্রমণ চালানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন। আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্ (রাঃ) ছিলেন আমাদের সেনাপতি। আমরা অর্ধমাস সমুদ্র তীরে অবস্থান করলাম। ভয়ানক ক্ষুধা আমাদেরকে পেয়ে বসল। ক্ষুধার জ্বালায় গাছের পাতা খেতে থাকলাম। এ জন্যই এ সৈন্যবাহিনীর নাম রাখা হয়েছে জায়শুল খাবাত অর্থাৎ পাতাওয়ালা সেনাদল।এরপর সমুদ্র আমাদের জন্য আম্বর নামক একটি প্রাণী নিক্ষেপ করল। আমরা অর্ধমাস ধরে তা থেকে খেলাম। এর চর্বি শরীরে লাগালাম। ফলে আমাদের শরীর পূর্বের মত হৃষ্টপুষ্ট হয়ে গেল। এরপর আবূ ‘উবাইদাহ(রাঃ) আম্বরটির শরীর থেকে একটি পাঁজর ধরে খাড়া করালেন। এরপর তাঁর সাথীদের মধ্যকার সবচেয়ে লম্বা লোকটিকে আসতে বললেন। সুফ্ইয়ান (রহঃ) আরেক বর্ণনায় বলেছেন, আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) আম্বরটির পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্য থেকে একটি হাড় ধরে খাড়া করালেন এবং (ঐ) লোকটিকে উটের পিঠে বসিয়ে এর নিচে দিয়ে অতিক্রম করালেন।জাবির বলেন, সেনাদলের এক ব্যক্তি (খাদ্যের অভাব দেখে) প্রথমে তিনটি উট যবেহ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবেহ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবেহ করেছিলেন। এরপর আবূ ‘উবাইদাহ(রাঃ) তাকে (উট যবেহ করতে) নিষেধ করলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৬৬, হাঃ ৪৩৬১; মুসলিম, পর্ব ৩৪: শিকার, যবহ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৯৩৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জায়শুল খাবাতের ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তিনশ সওয়ারীর একটি দল পাঠান এবং আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাঃ) ছিলেন তাদের নেতা। দীর্ঘ সময় সমুদ্র তীরে থাকার কারণে তাদের খাবার শেষ হয়ে যায়। ক্ষুধা এত বেশি হয় যে তারা গাছের পাতা খেতে বাধ্য হন। এরপর সমুদ্র তাদের জন্য আম্বর নামের বিশাল প্রাণী নিক্ষেপ করে। তারা অর্ধমাস তা থেকে খেয়েছেন এবং তার চর্বি ব্যবহার করেছেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কঠিন অবস্থাতেও আল্লাহ রিজিকের পথ খুলে দিতে পারেন। এখানে সাহাবীদের ধৈর্য, নেতৃত্বের দায়িত্ববোধ এবং প্রয়োজনের সময় খাবারের ব্যবস্থাপনার বিষয়ও স্পষ্ট। আবূ উবাইদাহ (রাঃ) এক ব্যক্তিকে বারবার উট যবেহ করা থেকে থামিয়ে দেন, যাতে সম্পদ অযথা শেষ না হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কষ্টের সময় ধৈর্য রাখা মুমিনের বড় গুণ।
- আল্লাহ কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন।
- নেতার দায়িত্ব হলো দলের প্রয়োজন ও সম্পদ দুটোই বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
- খাদ্য সংকটে অপচয় না করে বুদ্ধিমানের মতো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
