৬৪/৬৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৬১ - জাইশুল খাবাতে ক্ষুধা ও আম্বর মাছের ঘটনা
সীফুল বাহরের যুদ্ধ
এ যুদ্ধে মুসলিমগণ কুরাইশদের একটি কাফেলার প্রতীক্ষায় ছিল এবং তাঁদের সেনাপতি ছিলেন আবূ ‘উবাইদা (রাঃ)।"
জাইশুল খাবাত: ক্ষুধা, সহমর্মিতা ও আম্বর মাছের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৩৬১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৬১
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ الَّذِيْ حَفِظْنَاهُ مِنْ عَمْرِو بْنِ دِيْنَارٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُوْلُبَعَثَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَ مِائَةِ رَاكِبٍ أَمِيْرُنَا أَبُوْ عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ نَرْصُدُ عِيْرَ قُرَيْشٍ فَأَقَمْنَا بِالسَّاحِلِ نِصْفَ شَهْرٍ فَأَصَابَنَا جُوْعٌ شَدِيْدٌ حَتَّى أَكَلْنَا الْخَبَطَ فَسُمِّيَ ذَلِكَ الْجَيْشُ جَيْشَ الْخَبَطِ فَأَلْقَى لَنَا الْبَحْرُ دَابَّةً يُقَالُ لَهَا الْعَنْبَرُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ نِصْفَ شَهْرٍ وَادَّهَنَّا مِنْ وَدَكِهِ حَتَّى ثَابَتْ إِلَيْنَا أَجْسَامُنَا فَأَخَذَ أَبُوْ عُبَيْدَةَ ضِلَعًا مِنْ أَضْلَاعِهِ فَنَصَبَهُ فَعَمَدَ إِلَى أَطْوَلِ رَجُلٍ مَعَهُ قَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً ضِلَعًا مِنْ أَضْلَاعِهِ فَنَصَبَهُ وَأَخَذَ رَجُلًا وَبَعِيْرًا فَمَرَّ تَحْتَهُ قَالَ جَابِرٌ وَكَانَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ نَحَرَ ثَلَاثَ جَزَائِرَ ثُمَّ نَحَرَ ثَلَاثَ جَزَائِرَ ثُمَّ نَحَرَ ثَلَاثَ جَزَائِرَ ثُمَّ إِنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ نَهَاهُوَكَانَ عَمْرٌو يَقُوْلُ أَخْبَرَنَا أَبُوْ صَالِحٍ أَنَّ قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ قَالَ لِأَبِيْهِ كُنْتُ فِي الْجَيْشِ فَجَاعُوْا قَالَ انْحَرْ قَالَ نَحَرْتُ قَالَ ثُمَّ جَاعُوْا قَالَ انْحَرْ قَالَ نَحَرْتُ قَالَ ثُمَّ جَاعُوْا قَالَ انْحَرْ قَالَ نَحَرْتُ ثُمَّ جَاعُوْا قَالَ انْحَرْ قَالَ نُهِيْتُ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তিনশ' সওয়ারীর একটি সৈন্যবাহিনীকে কুরাইশদের একটি কাফেলার উপর সুযোগ মতো আক্রমণ চালানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন। আবূ 'উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্ (রাঃ) ছিলেন আমাদের সেনাপতি। আমরা অর্ধমাস সমুদ্র তীরে অবস্থান করলাম। ভয়ানক ক্ষুধা আমাদেরকে পেয়ে বসল। ক্ষুধার জ্বালায় গাছের পাতা খেতে থাকলাম। এ জন্যই এ সৈন্যবাহিনীর নাম রাখা হয়েছে জায়শুল খাবাত অর্থাৎ পাতাওয়ালা সেনাদল।এরপর সমুদ্র আমাদের জন্য আম্বর নামক একটি প্রাণী নিক্ষেপ করল। আমরা অর্ধমাস ধরে তা থেকে খেলাম। এর চর্বি শরীরে লাগালাম। ফলে আমাদের শরীর পূর্বের মত হৃষ্টপুষ্ট হয়ে গেল। এরপর আবূ 'উবাইদাহ (রাঃ) আম্বরটির শরীর থেকে একটি পাঁজর ধরে খাড়া করালেন। এরপর তাঁর সাথীদের মধ্যকার সবচেয়ে লম্বা লোকটিকে আসতে বললেন। সুফ্ইয়ান (রহঃ) আরেক বর্ণনায় বলেছেন, আবূ 'উবাইদাহ (রাঃ) আম্বরটির পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্য থেকে একটি হাড় ধরে খাড়া করালেন এবং (ঐ) লোকটিকে উটের পিঠে বসিয়ে এর নিচ দিয়ে অতিক্রম করালেন।জাবির (রাঃ) বলেন, সেনাদলের এক ব্যক্তি (খাদ্যের অভাব দেখে) প্রথমে তিনটি উট যবেহ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবেহ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবেহ করেছিলেন। এরপর 'আবূ উবাইদাহ (রাঃ) তাকে (উট যবেহ করতে) নিষেধ করলেন।আমর ইবনু দীনার (রহঃ) বলতেন, আবূ সালিহ (রহঃ) আমাদের জানিয়েছেন হে, কায়স ইবনু সা'দ (রাঃ) (অভিযান থেকে ফিরে এসে) তাঁর পিতার কাছে বর্ণনা করেছিলেন যে, সেনাদলে আমিও ছিলাম, সেনাদল ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল, (কথাটা শোনামাত্র কায়সের পিতা) সা'দ বললেন, এমতাবস্থায় তুমি উট যবেহ করে দিতে। কায়স বললেন, (হ্যাঁ) আমি উট যবেহ করেছি। তিনি বললেন, তারপর আবার সবাই ক্ষুধার্ত হয়ে গেল। এবারো তাঁর পিতা বললেন, তুমি যবেহ করতে। তিনি বললেন, (হ্যাঁ) যবেহ করেছি। তিনি বললেন, তারপর আবার সবাই ক্ষুধার্ত হল। সা'দ বললেন, এবারো উট যবেহ করতে। তিনি বললেন, (হ্যাঁ) যবেহ করেছি। তিনি বললেন, এরপরও আবার সবাই ক্ষুধার্ত হল। সা'দ (রাঃ) বললেন, উট যবেহ করতে। যখন কায়স ইবনু সা'দ (রাঃ) বললেন, তখন আমাকে (যবেহ করতে) নিষেধ করা হল। [৮২]
[৮২] নিষেধ করার কারণ ছিল এই যে, উটগুলো কায়স ইবনু সা'দ এর ছিল না এবং তাঁর পিতা সা'দ (রাঃ)-এর ছিল। পিতার অনুমতি ব্যতীত পুত্র পিতার সম্পদ হতে খরচ করতে পারে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবীদের এক কঠিন সফরের কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তিনশ সাওয়ারীকে কুরাইশদের কাফেলার দিকে পাঠান। তাদের সেনাপতি ছিলেন আবু উবাইদাহ রাঃ। সমুদ্র তীরে অর্ধমাস অবস্থানের সময় ভয়ানক ক্ষুধা দেখা দেয়। অবস্থা এমন হয় যে তারা গাছের পাতা খেতে শুরু করেন। এ কারণেই বাহিনীর নাম হয় জাইশুল খাবাত, অর্থাৎ পাতাওয়ালা সেনাদল। এরপর সমুদ্র তাদের জন্য আম্বর নামের বড় প্রাণী তীরে ফেলে দেয়। তারা অর্ধমাস তা থেকে খান এবং তার চর্বি শরীরে লাগান, ফলে দেহে শক্তি ফিরে আসে। হাদিসে আরও আছে, এক ব্যক্তি বারবার উট যবেহ করে দলকে সাহায্য করেন, পরে আবু উবাইদাহ রাঃ তাকে থামান। এখানে সংকটে দান, দলীয় নিয়ম ও নেতৃত্বের ভারসাম্য স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের ক্ষুধা দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা প্রশংসনীয়।
- সংকটে আবেগ নয়, নেতার নির্দেশ মেনে চলা দরকার।
- খাদ্যাভাব মানুষকে সামান্য জিনিসের মূল্য বুঝতে শেখায়।
- আল্লাহর দেওয়া রিজক দেহ ও মনকে আবার শক্ত করতে পারে।
