৩৬/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৯২ - শরাবের ক্ষতি ও নেশার ভয়াবহ আচরণ
মদ হারাম হওয়ার বর্ণনা এবং তা আঙ্গুরের রস, পাকা খেজুর, শুকনা খেজুর, কিশমিশ ইত্যাদি দ্বারা তৈরি হোক যা মাতাল করে।
শরাবের ক্ষতি: নেশা মানুষকে ভুল আচরণে ঠেলে দেয়
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৯২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৯২
حديث عَلِيٍّ، قَالَ: كَانَتْ لِي شَارِفٌ مِنْ نَصِيبِي مِنَ الْمَغْنَمِ، يَوْمَ بَدْرٍ، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَانِي شَارِفًا مِنَ الْخُمُسِ؛ فَلَمَّا أَرَدْتُ أَنْ أَبْتَنِيَ بَفَاطِمَةَ، بِنْتِ رَسولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاعَدْتُ رَجُلاً صَوَّاغًا، مِنْ بَنِي قَيْنُقَاعٍ، أَنْ يَرْتَحِلَ مَعِي، فَنَأْتِيَ بِإِذْخِرٍ، أَرَدْتُ أَنْ أَبِيعَهُ الصَّوَّاغِينَ، وَأَسْتَعِينَ بِهِ فِي وَلِيمَةِ عُرْسِي؛فَبَيْنَا أَنَا أَجْمَعُ لِشَارِفَيَّ مَتَاعًا مِنَ الأَقْتَابِ وَالْغَرَائِرِ وَالْحِبَالِ، وَشَارِفَايَ مُنَاخَانِ إِلَى جَنْبِ حُجْرَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ، رَجَعْتُ، حِينَ جَمَعْتُ مَا جَمَعْتُ، فَإِذَا شَارِفَايَ قَدِ اجْتُبَّ أَسْنِمَتُهُمَا، وَبُقِرَتْ خَوَاصِرُهُمَا، وَأُخِذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا؛ فَلَمْ أَمْلِكْ عَيْنَيَّ، حِينَ رَأَيْتُ ذَلِكَ الْمَنْظَرَ مِنْهُمَا فَقُلْتُ: مَنْ فَعَلَ هذَا فَقَالُوا: فَعَلَ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَهُوَ فِي هذَا الْبَيْتِ فِي شَرْبٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَانْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَعِنْدَهُ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ [ص: 10] فَعَرَفَ النَّبَيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي وَجْهِي الَّذِي لَقِيتُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا لَكَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ قَطُّ، عَدَا حَمْزَةُ عَلَى نَاقَتَيَّ فَأَجَبَّ أَسْنِمَتُهُمَا، وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا؛وَهَا هُوَ ذَا، فِيبَيْتٍ مَعَهُ شَرْبٌ فَدَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِرِدَائِهِ فَارْتَدَى، ثُمَّ انْطَلَقَ يَمْشِي، وَاتَّبَعْتُهُ أَنَا وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ، حَتَّى جَاءَ الْبَيْتَ الَّذِي فِيهِ حَمْزَةُ، فَاسْتَأْذَنَ، فَأَذِنُوا لَهُ، فَإِذَا هُمْ شَرْبٌ فَطَفِقَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلُومُ حَمْزَةَ فِيمَا فَعَلَ فَإِذَا حَمْزَةُ قَدْ ثَمِلَ مُحْمَرَّةً عَيْنَاهُ فَنَظَرَ حَمْزَةُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ، فَنَظَرَ إِلَى رُكْبَتِهِ، ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ، فَنَظَرَ إِلَى سُرَّتِهِ، ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ، فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهِ؛ ثُمَّ قَالَ حَمْزَةُ: هَلْ أَنْتُمْ إِلاَّ عَبِيدٌ لأَبِي فَعَرَفَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَدْ ثَمِلَ، فَنَكَصَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عَقِبَيْهِ الْقَهْقَرَى وَخَرَجْنَا مَعَهُ
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বদর যুদ্ধের গনীমতের মালের মধ্য হতে যে অংশ আমি পেয়েছিলাম, তাতে একটি জওয়ান উটনীও ছিল। আর নবী (ﷺ) খুমুসের মধ্য হতে আমাকে একটি জওয়ান উটনী দান করেন। আর আমি যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর সঙ্গে বাসর যাপন করব, তখন আমি বানূ কায়নুকা গোত্রের এক স্বর্ণকারের সঙ্গে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হলাম যে, সে আমার সঙ্গে যাবে এবং আমরা উভয়ে মিলে ইযখির ঘাস সংগ্রহ করে আনব। আমার ইচ্ছে ছিল তা স্বর্ণকারদের নিকট বিক্রি করে তা দিয়ে আমার বিবাহের ওয়ালীমা সম্পন্ন করব।ইতোমধ্যে আমি যখন আমার জওয়ান উটনী দুইটির জন্য আসবাবপত্র যেমন পালান, থলে ও রশি ইত্যাদি একত্রিত করছিলাম, আর আমার উটনী দুইটি এক আনসারীর ঘরের পার্শ্বে বসা ছিল। আমি আসবাবপত্র যোগাড় করে এসে দেখি উট দুইটির কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে এবং কোমরের দিকে পেট কেটে কলিজা বের করে নেয়া হয়েছে। উটনী দুইটির এ হাল দেখে আমি অশ্রু চেপে রাখতে পারলাম না। আমি বললাম, কে এমনটি করেছে? লোকেরা বলল, ‘হামযা ইব্নু ‘আবদুল মুত্তালিব এমনটি করেছে। সে এ ঘরে আছে এবং শরাব পানকারী কতিপয় আনসারীর সঙ্গে আছে।’আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট চলে গেলাম। তখন তাঁর নিকট যায়দ ইব্নু হারিসা (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার চেহারা দেখে আমার মানসিক অবস্থা উপলব্ধি করতে পারলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি আজকের মত দুঃখজনক অবস্থা দেখেনি। হামযাহ আমার উট দুইটির উপর অত্যাচার করেছে। সে দুইটির কুঁজ কেটে ফেলেছে এবং পাঁজর চিরে ফেলেছে। আর সে এখন অমুক ঘরে শরাব পানকারী দলের সঙ্গে আছে।’তখন নবী (ﷺ) তাঁর চাদরখানি আনতে আদেশ করলেন এবং চাদরখানি জড়িয়ে পায়ে হেঁটে চললেন। আমি এবং যায়দ ইব্নু হারিসা (রাঃ) তাঁর অনুসরণ করলাম। হামযাহ যে ঘরে ছিল সেখানে পৌঁছে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তারা অনুমতি দিল। তখন তারা শরাব পানে বিভোর ছিল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হামযাহকে তার কাজের জন্য তিরস্কার করতে লাগলেন।হামযাহ তখন পূর্ণ নেশাগ্রস্ত। তার চক্ষু দুইটি ছিল রক্তলাল। হামযাহ তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি তাকাল। অতঃপর সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল এবং তাঁর হাঁটু পানে তাকাল। আবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁর নাভির দিকে তাকাল। আবার সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁর মুখমণ্ডলের দিকে তাকাল। অতঃপর হামযাহ বলল, তোমরাই তো আমার পিতার গোলাম। এ অবস্থা দেখে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বুঝতে পারলেন, সে এখন পূর্ণ নেশাগ্রস্ত আছে। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) পেছনে হেঁটে সরে আসলেন। আর আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে আসলাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৭; খুমুস (এক পঞ্চমাংশ), অধ্যায় ১, হাঃ ৩০৯১; মুসলিম, পর্ব ৩৬ : পানীয়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯৭৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে শরাবের ক্ষতি একটি বাস্তব ঘটনার মাধ্যমে সামনে এসেছে। আলী (রাঃ) বদরের গনীমত ও খুমুস থেকে পাওয়া দুইটি জওয়ান উটনীর কথা বলেন। তিনি বিবাহের ওয়ালীমার খরচের জন্য ইযখির ঘাস সংগ্রহ করে বিক্রির পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন, তাঁর উটনী দুটির কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে, পাঁজর চিরে কলিজা বের করা হয়েছে। লোকেরা জানাল, হামযাহ ইবনু আবদুল মুত্তালিব এটি করেছেন এবং তিনি শরাব পানকারীদের সঙ্গে আছেন। আলী (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গেলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কষ্ট বুঝে সেখানে যান এবং হামযাহকে তিরস্কার করেন। কিন্তু হামযাহ তখন পূর্ণ নেশাগ্রস্ত ছিলেন, তাঁর চোখ লাল ছিল এবং তিনি অশোভন কথা বললেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বুঝলেন তিনি নেশাগ্রস্ত, তাই পেছনে সরে এলেন। এই হাদিসে নেশা মানুষের বিচারবুদ্ধি ও আচরণকে কীভাবে নষ্ট করে, তা স্পষ্ট দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেশা মানুষকে অন্যের সম্পদ নষ্ট করার মতো কাজে ঠেলে দিতে পারে।
- অন্যায়ের কথা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জানানো হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি দেখেছেন।
- নেশাগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে আচরণে সতর্কতা দরকার।
- অন্যের ক্ষতি করা গভীর কষ্টের কারণ হয়।
