৩৬/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৯৩ - শরাব হারাম ও সাহাবীদের দ্রুত আনুগত্য
মদ হারাম হওয়ার বর্ণনা এবং তা আঙ্গুরের রস, পাকা খেজুর, শুকনা খেজুর, কিশমিশ ইত্যাদি দ্বারা তৈরি হোক যা মাতাল করে।
শরাব হারাম: ঘোষণা শুনেই সাহাবীদের দ্রুত সাড়া
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৯৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৯৩
حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنْتُ سَاقِيَ الْقَوْمِ، فِي مَنْزِلِ أَبِي طَلْحَةَ، وَكَانَ خَمْرُهُمْ يَوْمَئِذٍ الْفَضِيخَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنَادِيًا يُنَادِي: أَلاَ إِنَّ الْخَمْرَ قَدْ حُرِّمَتْ قَالَ: فَقَالَ لِي أَبُو طَلْحَةَ: اخْرُجْ فَأَهْرِقْهَا فَخَرَجْتُ فَهَرَقْتُهَا، فَجَرَتْ [ص: 11] فِي سِكَكِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: قَدْ قُتِلَ قَوْمٌ وَهِيَ فِي بُطُونِهِمْ فَأَنْزَلَ اللهُ ﴾لَيْسَ عَلَى الَّذِين آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا﴿ الآية
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমি আবূ তালহার বাড়িতে লোকজনকে শরাব পান করাচ্ছিলাম। সে সময় লোকেরা ফাযীখ শরাব ব্যবহার করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, যেন সে এ মর্মে ঘোষণা দেয় যে, সাবধান! শরাব এখন হতে হারাম করে দেয়া হয়েছে। আবূ তালহা (রাঃ) আমাকে বললেন, বাইরে যাও এবং সমস্ত শরাব ঢেলে দাও। আমি বাইরে গেলাম এবং সমস্ত শরাব রাস্তায় ঢেলে দিলাম। আনাস (রাঃ) বলেন, সে দিন মাদীনার অলিগলিতে শরাবের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলল, একদল লোক নিহত হয়েছে, অথচ তাদের পেটে শরাব ছিল।তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ “যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারা পূর্বে যা কিছু পানাহার করেছে তার জন্য তাদের কোন গুনাহ হবে না”-(আল-মা-য়িদাহ ৯৩)।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৬: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন, অধ্যায় ২১, হাঃ ২৪৬৪; মুসলিম, পর্ব ৩৬ : পানীয়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯৮০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শরাব হারাম হওয়ার ঘোষণার পর সাহাবীদের দ্রুত আনুগত্যের ছবি দেখা যায়। আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি আবূ তালহার বাড়িতে লোকদের শরাব পান করাচ্ছিলেন। সে সময় ফাযীখ নামের শরাব ব্যবহৃত হতো। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একজন ঘোষককে আদেশ করলেন, যেন ঘোষণা দেয়: সাবধান, শরাব এখন থেকে হারাম করা হয়েছে। ঘোষণা শোনার পর আবূ তালহা (রাঃ) আনাস (রাঃ)-কে বললেন, বাইরে গিয়ে সব শরাব ঢেলে দাও। আনাস (রাঃ) তা-ই করলেন, এমনকি মাদীনার অলিগলিতে শরাব বয়ে গেল। এরপর কেউ কেউ বলল, কিছু লোক তো মারা গেছে, অথচ তাদের পেটে শরাব ছিল। তখন আয়াত নাযিল হলো যে, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা আগে যা পানাহার করেছে তার জন্য তাদের গুনাহ হবে না। এই হাদিসে আল্লাহর নির্দেশ আসার পর দেরি না করে মানার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হারামের ঘোষণা আসার পর সাহাবীরা দ্রুত তা ছেড়ে দেন।
- আল্লাহর নির্দেশ জানার পর আনুগত্য করা ঈমানের পরিচয়।
- আগে যারা জানার আগে পান করেছিল, তাদের বিষয়ে আয়াত নাযিল হয়েছে।
- হারাম জিনিস থেকে দূরে থাকতে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হয়।
