৩৬/৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩০২ - সকল নেশা উৎপাদক বস্তু হারাম
যা মাতলামি আনে তাই মাদকদ্রব্য আর প্রত্যেক মাদকদ্রব্যই হারাম।
সকল নেশা উৎপাদক বস্তু হারাম: বিত্উ ও মিযর থেকে শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩০২
حديث أَبِي مُوسى وَمُعَاذٍ بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَبَا مُوسى وَمُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ، فَقَالَ: يَسِّرَا وَلاَ تُعَسِّرَا، وَبَشِّرَا وَلاَ تُنَفِّرَا، وَتَطَاوَعَا فَقَالَ أَبُو مُوسى: يَا نَبِيَّ اللهِ إِنَّ أَرْضَنَا بِهَا شَرَابٌ مِنَ الشَّعِيرِ، الْمِزْرُ؛ وَشَرَابٌ مِنَ الْعَسَلِ، الْبِتْعُ فَقَالَ: كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) তাঁকে (আবূ মূসাকে গভর্নর নিযুক্ত করে) ইয়ামানে পাঠিয়েছেন। তখন তিনি ইয়ামানে তৈরি করা হয় এমন কতিপয় শরাব সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি (ﷺ) বললেন, ঐগুলো কী কী? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, তা হল বিত্উ‘ ও মিয্র শরাব। বর্ণনাকারী সা‘ঈদ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ বুরদাকে জিজ্ঞেস করলাম বিত্উ‘ কী? তিনি বললেন, বিত্উ‘ হল মধু থেকে গ্যাজানো রস আর মিয্র হল যবের গ্যাঁজানো রস। (সা‘ঈদ বলেন) তখন নবী (ﷺ) বললেন, সকল নেশা উৎপাদক বস্তুই হারাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ৬০, হাঃ ৪৩৪৩; মুসলিম, পর্ব ৩৬ : পানীয়, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৭৩৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ মূসা (রাঃ) ইয়ামানে তৈরি দুই ধরনের পানীয়—বিত্উ ও মিযর—সম্পর্কে জানতে চান। একটির উৎস মধু, আরেকটির উৎস যব। নবী (صلى الله عليه وسلم) দীর্ঘ তালিকা না দিয়ে মূল নীতি জানিয়ে দিলেন: সকল নেশা উৎপাদক বস্তুই হারাম। এতে বোঝা যায়, কোনো পানীয় কোন জিনিস থেকে তৈরি হলো—মধু, যব বা অন্য কিছু—এটাই শেষ কথা নয়। আসল বিষয় হলো, সেটি নেশা তৈরি করে কি না। এই হাদিস মাদক, শরাব ও নেশাদ্রব্য বিষয়ে একটি সহজ মাপকাঠি দেয়। নাম বদলালেও, উপাদান বদলালেও, যদি নেশা থাকে তবে মুসলিমকে তা থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে নবী (صلى الله عليه وسلم) আবূ মূসা ও মুআযকে সহজ করা, কঠিন না করা এবং মানুষকে সুসংবাদ দেওয়ার নির্দেশও দেন, যা দাওয়াতের সুন্দর পদ্ধতি শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেশা উৎপাদক বস্তু হারাম—এটি হাদিসের সরাসরি শিক্ষা।
- উৎস বা নাম ভিন্ন হলেও নেশা থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
- দাওয়াত ও দায়িত্ব পালনে সহজতা, মিলেমিশে কাজ করা এবং মানুষকে দূরে না ঠেলা গুরুত্বপূর্ণ।
