৩৬/৮. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩০৩ - মদপান ও তওবার সতর্ক বার্তা
যে মদপান করল তা থেকে বিরত হল না বা তাওবাহ করল না তার শাস্তি তাকে পরকালে তা থেকে বঞ্চিত করা হবে।
মদপান ও তওবা: আখিরাতের বঞ্চনা থেকে সতর্ক হওয়ার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩০৩
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا، ثُمَّ لَمْ يَتُبْ مِنْهَا، حُرِمَهَا فِي الآخِرَةِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করেছে এরপর সে তা থেকে তাওবাহ করেনি, সে ব্যক্তি আখিরাতে তা থেকে বঞ্চিত থাকবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৪; পানীয়, অধ্যায় ১, হাঃ ৫৫৭৫; মুসলিম, পর্ব ৩৬ : পানীয়, অধ্যায় ৮, হাঃ ২০০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দুনিয়াতে মদ পান করেছে এবং পরে তা থেকে তওবা করেনি। তার বিষয়ে বলা হয়েছে, সে আখিরাতে তা থেকে বঞ্চিত থাকবে। হাদিসটি মদপানের ভয়াবহতা বোঝায়, কিন্তু একই সঙ্গে তওবার গুরুত্বও সামনে আনে। কারণ কথাটি বলা হয়েছে ‘তাওবাহ করেনি’—এই শর্তসহ। তাই একজন মানুষ ভুল করলে তার উচিত ভুলকে হালকা না ধরা, বরং আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। নেশাদ্রব্য, মদ এবং হারাম পানীয় থেকে ফিরে আসার পথ হলো তওবা, অনুতাপ এবং সেই কাজ ছাড়ার চেষ্টা। হাদিসটি অতিরঞ্জিত ভয় দেখানোর জন্য নয়; বরং মুসলিমকে নিজের কাজ নিয়ে সচেতন করার জন্য। আখিরাতের কথা মনে থাকলে দুনিয়ার ক্ষণিক আকর্ষণ থেকে নিজেকে সামলানো সহজ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদপান গুরুতর গুনাহ, তাই একে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- তওবা না করার বিষয়টি হাদিসে বিশেষভাবে উল্লেখ হয়েছে।
- আখিরাতের হিসাব মনে রাখা মানুষকে হারাম থেকে ফিরতে সাহায্য করে।
