৩৬/৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩০৪ - ওয়ালীমায় খেজুর ভেজানো পানীয়
নাবিজ ততক্ষণ (খাওয়া) বৈধ যতক্ষণ না তা কঠিনভাবে বিকৃত হয় এবং মাদকদ্রব্যে পরিণত হয়।
ওয়ালীমায় হালাল পানীয়: খেজুর ভেজানো পানির শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩০৪
حديث سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: دَعَا أَبُو أُسَيْدٍ السَّاعِدِيُّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي عُرْسِهِ، وَكَانَتِ امْرَأَتُهُ، يَوْمَئِذٍ، خَادِمَهُمْ، وَهِيَ الْعَرُوسُ قَالَ سَهْلٌ: تَدْرُونَ مَا سَقَتْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْقَعَتْ لَهُ تَمَرَاتٍ مِنَ اللَّيْلِ، فَلَمَّا أَكَلَ سَقَتْهُ إِيَّاهُ
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ উসায়দ আস্ সা‘ঈদী (রাঃ) শাদী উপলক্ষে নবী (ﷺ)-কে তাঁর ওয়ালীমায় দাওয়াত করলেন। তাঁর নববধূ সেদিন খাদ্য পরিবেশন করছিলেন। সাহ্ল (রাঃ) বলেন, তোমরা কি জান, সে দিন নবী (ﷺ)-কে কী পানীয় সরবরাহ করা হয়েছিল? সারারাত ধরে কিছু খেজুর পানির মধ্যে ভিজিয়ে রেখে তা থেকে তৈরি পানীয়। নবী (ﷺ) যখন খাওয়া শেষ করলেন, তখন তাঁকে ঐ পানীয়ই পান করতে দেয়া হয়।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৭: বিবাহ, অধ্যায় ৭২, হাঃ ৫১৭৬; মুসলিম, পর্ব ৩৬: পানীয়, অধ্যায় ৯, হাঃ ২০০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ উসায়দ আস্ সা‘ঈদী (রাঃ)-এর ওয়ালীমার কথা এসেছে। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে দাওয়াত করেন। নববধু নিজে খাদ্য পরিবেশন করছিলেন। খাবার শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে যে পানীয় দেওয়া হয়, তা ছিল রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখা কিছু খেজুর থেকে তৈরি পানীয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, আপ্যায়ন সুন্দর হতে হলে তা জাঁকজমকপূর্ণ হতে হবে—এ কথা হাদিসে নেই। বরং সহজ, হালাল ও পরিচ্ছন্ন পানীয় দিয়েও সম্মান করা যায়। খেজুর ভেজানো পানীয় নেশার জন্য নয়; এখানে তা সাধারণ আপ্যায়ন হিসেবে এসেছে। হাদিসটি ওয়ালীমা, অতিথি আপ্যায়ন, হালাল পানীয় এবং ঘরোয়া পরিবেশনার একটি সরল ছবি দেখায়। একজন মুসলিমের জন্য এতে খাবার-পানীয়ে হালাল সীমা এবং অতিথির প্রতি আন্তরিকতার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতিথি আপ্যায়নে আন্তরিকতা গুরুত্বপূর্ণ, বাহুল্য নয়।
- ওয়ালীমার খাবার-পানীয় হালাল ও পরিষ্কার হওয়া উচিত।
- ঘরের মানুষ নিজের হাতে সেবা করাও সম্মানের একটি সুন্দর রূপ হতে পারে।
