৩৭/২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৪২ - রেশমী পোশাক থেকে বিরত থাকার শিক্ষা
পুরুষ ও মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার হারাম এবং স্বর্ণের আংটি ও রেশমী বস্ত্র পুরুষের জন্য হারাম ও তা মহিলাদের জন্য বৈধ এবং রেশমী দ্বারা নকশা করা যার পরিমাণ চার আঙ্গুলের বেশি নয় তা পুরুষের জন্য বৈধ।
রেশমী পোশাক: নবীজির অসন্তোষ দেখে দ্রুত মানার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩৪২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩৪২
حديث عَلِيٍّ رضي الله عنه، قَالَ: أَهْدَى إِلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حُلَّةَ سِيَرَاءَ فَلَبِسْتُهَا، فَرَأَيْتُ الْغَضَبَ فِي وَجْهِهِ، فَشَقَقْتُهَا بَيْنَ نِسَائِي
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম। তাঁর মুখমণ্ডলে গোস্বার ভাব দেখতে পেয়ে আমি আমার মহিলাদের মাঝে তা ভাগ করে দিয়ে দিলাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫১ : হিবা এর ফাযীলাত এবং এর জন্য উদ্বুদ্ধ করা, অধ্যায় ২৭, হাঃ ২৬১৪; মুসলিম, পর্ব ৩৭ : পোশাক ও অলঙ্কার, অধ্যায় ১, হাঃ ১০৭১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রেশমী পোশাক বিষয়ে একটি সরাসরি শিক্ষা আছে। আলী (রাঃ) জানান, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিয়েছিলেন। তিনি তা পরেছিলেন। কিন্তু নবীজির মুখে অসন্তোষের ভাব দেখে তিনি তা নিজের ব্যবহারে রাখেননি; বরং তাঁর মহিলাদের মাঝে ভাগ করে দেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সাহাবীরা নবীজির ইশারা ও অসন্তোষকেও গুরুত্ব দিতেন। রেশমী কাপড় পরিধান নিয়ে হাদিসটি দেখায়, কোনো জিনিস হাতে থাকা মানেই তা নিজের জন্য ব্যবহার করা ঠিক হবে—এমন নয়। পোশাকের আদব, আনুগত্য এবং সতর্কতা—এই তিনটি শিক্ষা এখানে খুব পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির অসন্তোষ দেখলে সাহাবীরা দ্রুত নিজেদের কাজ বদলাতেন।
- কোনো পোশাক পাওয়া মানেই তা নিজের জন্য ব্যবহারযোগ্য—এ কথা বলা যায় না।
- রেশমী পোশাকের বিষয়ে সতর্ক থাকা এই হাদিসের সরাসরি শিক্ষা।
