৩৭/২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৪৪ - মুত্তাকীদের পোশাক কেমন হওয়া উচিত
পুরুষ ও মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার হারাম এবং স্বর্ণের আংটি ও রেশমী বস্ত্র পুরুষের জন্য হারাম ও তা মহিলাদের জন্য বৈধ এবং রেশমী দ্বারা নকশা করা যার পরিমাণ চার আঙ্গুলের বেশি নয় তা পুরুষের জন্য বৈধ।
মুত্তাকীদের পোশাক: রেশমী জুব্বা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩৪৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩৪৪
حديث عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: أُهْدِيَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُّوجُ حَرِيرٍ، فَلَبِسَهُ فَصَلّى فِيهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَنَزَعَهُ نَزْعًا شَدِيدًا كَالْكَارِهِ لَهُ وَقَالَ: لاَ يَنْبَغِي هذَا لِلْمُتَّقِينَ
‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-কে একটা রেশমী জুব্বা হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়েছিল। তিনি তা পরিধান করে সালাত আদায় করলেন। কিন্তু সালাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত তা খুলে ফেললেন, যেন তিনি তা পরা অপছন্দ করছিলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্যে এ পোশাক সমীচীন নয়।*
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮; সালাত, অধ্যায় ১৬, হাঃ ৩৭৫; মুসলিম, পর্ব ৩৭ : পোশাক ও অলঙ্কার, অধ্যায় ১৫, হাঃ ২০৭৫*পুরুষের জন্য রেশমি কাপড় পরিধান হারাম হওয়ার পূর্বের ঘটনা এটি।
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে একটি রেশমী জুব্বা হাদিয়া দেওয়া হয়েছিল। তিনি তা পরে সালাত আদায় করেন। কিন্তু সালাত শেষ করেই দ্রুত খুলে ফেলেন, যেন তিনি তা পরা অপছন্দ করছেন। এরপর বলেন, “মুত্তাকীদের জন্যে এ পোশাক সমীচীন নয়।” এখানে রেশমী পোশাক এবং তাকওয়ার সম্পর্ক সরাসরি বোঝা যায়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, পোশাক শুধু বাহ্যিক সাজ নয়; তা মানুষের ধর্মীয় সচেতনতার সঙ্গেও যুক্ত। কোনো পোশাক সুন্দর বা মূল্যবান হলেই তা মুমিনের জন্য মানানসই হবে—এমন নয়। মুত্তাকীদের পোশাকে সংযম, সতর্কতা ও আল্লাহভীরু মনোভাব থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুত্তাকীর পোশাক বাছাইয়ে আল্লাহভীতি থাকতে হয়।
- রেশমী জুব্বা নবীজি অপছন্দ করেছেন বলে হাদিসে এসেছে।
- সুন্দর পোশাক হলেও তা ধর্মীয় সীমার বাইরে হলে এড়াতে হয়।
