৩৮/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮১ - নবীজির নাম ও কুনিয়াতের আদব
আবুল কাসেম নামে কুনিয়াত বা উপনাম রাখা মাকরূহ এবং মুস্তাহাব নামসমূহের বর্ণনা।
নবীজির নামে নাম রাখা ও আবুল কাসিম কুনিয়াতের বিধান
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩৮১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩৮১
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ: وُلِدَ لَرَجُلٍ مِنَّا غُلاَمٌ، فَسَمَّاهُ الْقَاسِمَ فَقَالَتِ الأَنْصَارُ: لاَ نَكْنِيكَ أَبَا الْقَاسِمِ، وَلاَ نُنْعِمُكَ عَيْنًافَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ وُلِدَ لِي غُلاَمٌ، فَسَمَّيْتُهُ الْقَاسِمَ، فَقَالَتِ الأَنْصَارُ: لاَ نَكْنِيكَ أَبَا الْقَاسِمِ، وَلاَ نُنْعِمُكَ عَيْنًافَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَحْسَنَتِ الأَنْصَارُ، سَمُّوا بِاسْمِي، وَلاَ تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي، فَإِنَّمَا أَنا قَاسِمٌ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের মধ্যে এক জনের পুত্র জন্মে। সে তার নাম রাখল কাসিম। তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনীয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না। সে ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার একটি পুত্র জন্মেছে। আমি তার নাম রেখেছি কাসিম। তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনীয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না। নবী (ﷺ) বললেন, ‘আনসারগণ ঠিকই করেছে। তোমরা আমার নামে নাম রাখ, কিন্তু কুনীয়াতের মত কুনীয়াত ব্যবহার করো না। কেননা, আমি তো কাসিম (বণ্টনকারী)।’
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৭; খুমুস (এক পঞ্চমাংশ), অধ্যায় ৭, হাঃ ৩১১৫; মুসলিম, পর্ব ৩৮: আচার-ব্যবহার, অধ্যায় ১, হাঃ ২১৩৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো নাম ও কুনিয়াতের আদব। একজন সাহাবীর ছেলে জন্ম নিলে তিনি তার নাম রাখেন কাসিম। এতে আনসারগণ তাকে আবুল কাসিম কুনিয়াত ব্যবহার করতে দিতে চাননি। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গেলে তিনি আনসারদের কথা ঠিক বলেন। এরপর তিনি বলেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখ, কিন্তু আমার কুনিয়াতের মতো কুনিয়াত ব্যবহার করো না। কারণ তিনি নিজেই কাসিম, অর্থাৎ বণ্টনকারী। এখানে নবীজির নামের সম্মান, সাহাবীদের সতর্কতা এবং কুনিয়াত ব্যবহারের সীমা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তাই সন্তানের সুন্দর নাম রাখা ভালো, তবে নবীজির বিশেষ কুনিয়াতের ক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশ মানা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির নামে নাম রাখা বৈধ, যেমন হাদিসে অনুমতি এসেছে।
- আবুল কাসিম কুনিয়াত ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- সাহাবীরা নবীজির বিশেষ মর্যাদা রক্ষায় সতর্ক ছিলেন।
- নাম ও ডাকনামের ক্ষেত্রেও ইসলামী আদব মেনে চলা দরকার।
