৩৮/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮৭ - ইবরাহীম নাম ও শিশুর বরকতের দোয়া
কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করার সময় তাহনিক করা (কিছু চিবিয়ে মুখে দেয়া) এবং তাহনিক করার জন্য ভালো লোকের নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব। জন্মের দিন নাম রাখা জায়িজ এবং আবদুল্লাহ, ইবরাহিম ও সমস্ত নবী (ﷺ)গণের নামে নাম রাখা মুস্তাহাব।
নবজাতকের জন্য ইবরাহীম নাম, তাহনীক ও বরকতের দোয়া
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩৮৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩৮৭
حديث أَبِي مُوسى رضي الله عنه، قَالَ: وُلِدَ لِي غُلاَمٌ، فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَمَّاهُ إِبْرَاهِيمَ، فَحَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ وَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ وَدَفَعَه إِلَيَّ وَكَانَ أَكْبَرَ وَلَدِ أَبِي مُوسى
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে আমি তাকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম। তারপর খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন এবং তার জন্য বারকাতের দোয়া করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। সে ছিল আবূ মূসার বড় সন্তান।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭১: আক্বীকাহ, অধ্যায় ১, হাঃ ৫৪৬৭; মুসলিম, পর্ব ৩৮: আচার-ব্যবহার, অধ্যায় ৪, হাঃ ২১৪৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ মূসা (রাঃ) তাঁর নবজাতক পুত্রকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে নিয়ে যান। নবীজি শিশুর নাম রাখেন ইবরাহীম। এরপর খেজুর চিবিয়ে শিশুর মুখে দেন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করেন। পরে শিশুকে তার পিতার কাছে ফিরিয়ে দেন। এই বর্ণনার মূল বিষয় হলো নবজাতকের জন্য ভালো নাম রাখা, তাহনীক করা এবং দোয়া করা। এখানে কোনো বাড়তি দাবি নেই; হাদিসে যা এসেছে, সেটাই শিক্ষা। বাবা-মায়ের জন্য এটি সুন্দর নির্দেশনা যে সন্তান জন্মের পর তার ভালো নাম রাখা এবং তার জন্য কল্যাণের দোয়া করা উচিত। শিশুর জীবনের শুরুতে দোয়া ও ভালো নাম—দুটিই মূল্যবান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবজাতকের জন্য ভালো অর্থের নাম রাখা উচিত।
- শিশুর জন্য বরকতের দোয়া করা হাদিসে এসেছে।
- খেজুর দিয়ে তাহনীক করার ঘটনা নবীজির আমলে পাওয়া যায়।
- সন্তান জন্মের পর তাকে কল্যাণের পথে বড় করার চিন্তা থাকা দরকার।
