৩৮/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮৮ - আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়েরের তাহনীক
কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করার সময় তাহনিক করা (কিছু চিবিয়ে মুখে দেয়া) এবং তাহনিক করার জন্য ভালো লোকের নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব। জন্মের দিন নাম রাখা জায়িজ এবং আবদুল্লাহ, ইবরাহিম ও সমস্ত নবী (ﷺ)গণের নামে নাম রাখা মুস্তাহাব।
আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়েরের জন্ম, তাহনীক ও বরকতের দোয়া
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩৮৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩৮৮
حديث أَسْمَاءَ رضي الله عنها، أَنَّهَا حَمَلَتْ بِعَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَتْ: فَخَرَجْتُ وَأَنَا مُتِمٌّ فَأَتَيْتُ الْمَدِينَةَ، فَنَزَلْتُ بِقُبَاءٍ، فَوَلَدْتُهُ بِقُبَاءٍ ثُمَّ أَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَوَضَعْتُهُ فِي حَجْرِهِ ثُمَّ دَعَا بِتَمْرَةٍ فَمَضَغَهَا، ثُمَّ تَفَلَ فِي فِيهِ فَكَانَ أَوّلَ شَيْءٍ دَخَلَ جَوْفَهُ رِيقُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ حَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ، ثُمَّ دَعَا لَهُ وَبَرَّكَ عَلَيْهِ؛ وَكَانَ أَوَّلَ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي الإِسْلاَمِ
আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তখন আবদুল্লাহ্ ইব্নু যুবায়ের তাঁর গর্ভে ছিলেন। আমি এমন সময় হিজরত করি যখন আমি আসন্ন প্রসবা। আমি মাদীনায় এসে কুবাতে অবতরণ করি। এ কুবাতেই আমি পুত্র সন্তানটি প্রসব করি। এরপর আমি তাঁকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁর কোলে দিলাম। তিনি একটি খেজুর আনালেন এবং তা চিবিয়ে তাঁর মুখে দিলেন। কাজেই সর্বপ্রথম যে বস্তুটি আবদুল্লাহর পেটে গেল তা হল নবী (ﷺ)-এর থুথু। নবী (ﷺ) সামান্য চিবানো খেজুর নবজাতকের মুখের ভিতরের তালুর অংশে লাগিয়ে দিলেন। এরপর তাঁর জন্য দোয়া করলেন এবং বরকত চাইলেন। তিনি হলেন প্রথম নবজাতক সন্তান যিনি হিজরতের পর মুসলিম পরিবারে জন্মলাভ করেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৩ : আনসারগণের মর্যাদা, অধ্যায় ৪৫, হাঃ ৩৯০৯; মুসলিম, পর্ব ৩৮ : আচার-ব্যবহার, অধ্যায় ৪, হাঃ ২১৪৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আসমা (রাঃ)-এর বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়েরের জন্মের ঘটনা এসেছে। তিনি গর্ভাবস্থায় হিজরত করেন এবং কুবায় সন্তান প্রসব করেন। এরপর শিশুকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে নিয়ে যান। নবীজি তাকে কোলে নেন, খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দেন, তারপর তাহনীক করেন এবং তার জন্য দোয়া ও বরকত চান। হাদিসে এটিও এসেছে যে তিনি হিজরতের পর মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া প্রথম নবজাতক। এই বর্ণনায় নবজাতকের সম্মান, শিশুর জন্য দোয়া এবং তাহনীকের বিষয়টি পরিষ্কার। এখানে মূল শিক্ষা হলো সন্তান জন্মের পর আল্লাহর কাছে তার জন্য কল্যাণ ও বরকত চাওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবজাতকের জন্য দোয়া ও বরকত চাওয়া সুন্দর আমল।
- খেজুর দিয়ে তাহনীক করার বর্ণনা হাদিসে আছে।
- সন্তান জন্মের আনন্দের সঙ্গে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া উচিত।
- নবজাতককে ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে গ্রহণ করা হাদিসের শিক্ষা।
