৩৮/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮৯ - মুনযির নাম রাখার হাদিস
কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করার সময় তাহনিক করা (কিছু চিবিয়ে মুখে দেয়া) এবং তাহনিক করার জন্য ভালো লোকের নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব। জন্মের দিন নাম রাখা জায়িজ এবং আবদুল্লাহ, ইবরাহিম ও সমস্ত নবী (ﷺ)গণের নামে নাম রাখা মুস্তাহাব।
মুনযির নাম রাখার হাদিস: শিশুর সুন্দর নামের গুরুত্ব
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩৮৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩৮৯
حديث سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: أُتِيَ بِالْمُنْذِرِ ابْنِ أَبِي أُسَيْدٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حِينَ وُلِدَ، فَوَضَعَهُ عَلَى فَخِذِهِ، وَأَبُو أُسَيْدٍ جَالِسٌ؛ فَلَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَيْءٍ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَأَمَرَ أَبُو أُسَيْدٍ بِابْنِهِ فَاحْتُمِلَ مِنْ فَخِذِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَفَاقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَيْنَ الصَّبِيُّ فَقَالَ أَبُو أُسَيْدٍ: قَلَبْنَاهُ، يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: مَا اسْمُهُ قَالَ: فُلاَنٌ قَالَ: وَلكِنْ أَسْمِهِ الْمُنْذِرَ فَسَمَّاهِ يَوْمَئِذٍ الْمُنْذِرَ
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন মুনযির ইবনু আবূ উসায়দ জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তাঁকে নবী (ﷺ)-এর খিদমতে নিয়ে আসা হলো। তিনি তাঁকে নিজের উরুর উপর রাখলেন। আবূ উসায়দ পাশেই বসা ছিলেন। এ সময় নবী (ﷺ) তাঁর সামনেই কোন জরুরি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ইত্যবসরে আবূ উসায়দ (রাঃ) কারো দ্বারা তাঁর উরু থেকে তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন। পরে নবী (ﷺ) সে কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করে জিজ্ঞেস করলেনঃ শিশুটি কোথায়? আবূ উসায়দ বললঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আমি তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তাঁর নাম কী? তিনি বললেনঃ অমুক। নবী (ﷺ) বললেনঃ বরং তাঁর নাম ‘মুন্যির’। সে দিন থেকে তাঁর নাম রাখলেন ‘মুন্যির’।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ১০৮, হাঃ ৬১৯১; মুসলিম, পর্ব ৩৮ : আচার-ব্যবহার, অধ্যায় ৫, হাঃ ২১৪৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুনযির ইবনু আবূ উসায়দের জন্মের পর তাকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আনার কথা এসেছে। নবীজি শিশুকে নিজের উরুর ওপর রাখেন। পরে কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে শিশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কাজ শেষ করে তিনি শিশুর খোঁজ করেন এবং তার নাম জানতে চান। যখন আগের নাম বলা হয়, নবীজি বলেন, বরং তার নাম মুনযির। এরপর সেদিন থেকেই তার নাম মুনযির রাখা হয়। এই বর্ণনায় শিশুর প্রতি নবীজির মমতা এবং নামের দিকে তাঁর খেয়াল দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, নবজাতকের নাম শুধু পারিবারিক পছন্দের বিষয় নয়; ভালো নাম বাছাইয়েরও গুরুত্ব আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুর ভালো নাম রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক কাজ।
- নবীজি শিশুদের প্রতি মমতা দেখাতেন।
- প্রয়োজনে শিশুর নাম পরিবর্তন করা যায়।
- নাম রাখার সময় অর্থ ও উপযোগিতা দেখা উচিত।
