৪৩/১৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৯৮ - সৃষ্টির প্রতি দয়ার শিক্ষা
রাসূল (ﷺ)-এর শিশু ও অনাথদের প্রতি অত্যধিক দয়া এবং তাঁর বিনয় ও অন্যান্য সদ্গুণাবলী।
দয়ার হাদিস: যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪৯৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৪৯৮
حديث جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ لاَ يَرْحَمُ لاَ يُرْحَمُ
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি (সৃষ্টির প্রতি) দয়া করে না, (স্রষ্টার পক্ষ থেকে) তার প্রতি দয়া করা হবে না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮; আদব-আচার, অধ্যায় ২৭, হাঃ ৬০১৩; মুসলিম, পর্ব ৪৩: ফাযায়েল, অধ্যায় ১৫, হাঃ ২৩১৯
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর শিক্ষা বড়। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হবে না। হাদিসের ভাষায় ‘দয়া’ শুধু পরিবারের মানুষের জন্য নয়; সাধারণভাবে সৃষ্টির প্রতি কোমলতা ও সহানুভূতির কথা বোঝায়। তবে হাদিসের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়। মূল কথা হলো—নিজে দয়ালু হওয়া, মানুষের কষ্ট বুঝতে চেষ্টা করা এবং কঠোর মন নিয়ে না চলা। দৈনন্দিন জীবনে কথা, আচরণ, সম্পর্ক, শিশু, দুর্বল মানুষ—সব জায়গায় দয়া প্রকাশের সুযোগ থাকে। এই হাদিস আমাদের মনে করায়, দয়া শুধু আবেগ নয়; এটি ঈমানি চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাই এই হাদিস নিজেকে প্রশ্ন করতে শেখায়—আমার আচরণে দয়া আছে কি না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দয়া করা মুমিনের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- অন্যের প্রতি কঠোরতা নিজের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- দয়া কথা, আচরণ ও সম্পর্কের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- সৃষ্টির প্রতি কোমলতা রাখা দরকার।
